রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় কমেছে মানুষের কোলাহল, তালা ঝুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ফটকে। নেই অফিসের তাড়া কিংবা গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মিরপুরের মতো ব্যস্ততম এলাকাগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা।
রাজধানীর মালিবাগ এলাকায় কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বছরের বাকি দিনগুলোতে এই রাস্তায় পা ফেলার জায়গা থাকে না। আজ উত্তরা থেকে মালিবাগ আসতে সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট, যা অন্য সময় ভাবাই যায় না। শহরটা যদি সবসময় এমন শান্ত থাকত!’
ফার্মগেটে রিকশাচালক রহমত আলী বলেন, ‘গাড়ি কম, তাই প্যাডেল মারতে কষ্ট হচ্ছে না। যানজটে বসে থাকার জ্বালা নেই, খোলা রাস্তায় বাতাস খেতে খেতে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাতাসের কী অবস্থা?
তবে এই সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদ কাজী রাকিব বলেন, ‘জনসংখ্যার অত্যধিক ঘনত্ব ও যাতায়াত দুর্ভোগে ঢাকা তার আদর্শ শহরের মর্যাদা হারিয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক বাণিজ্য ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এবং স্টেকহোল্ডাররা সমন্বিতভাবে কাজ না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে না।’
যাত্রী সংকটের কারণে সড়কে বাসের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। কমেছে শব্দের তীব্রতা ও বায়ুদূষণ। এক অদ্ভুত নীরবতায় ছেয়ে গেছে উত্তর থেকে দক্ষিণ–পুরো রাজধানী। যারা ঢাকায় ঈদ করছেন, তাদের জন্য এই ফাঁকা শহর এক ভিন্নরকম ভালো লাগার আবেশ তৈরি করেছে।

৩ সপ্তাহ আগে
৭








Bengali (BD) ·
English (US) ·