মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর দুর্নীতি দমন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ।
জানা যায়, তানিয়া আক্তার রুমার স্বামী শাহদাৎ হোসেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক ছিলেন এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরেরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি শাহাদৎ হোসেনসহ তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় দুদক। এরপর একই বছরের ১৬ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।
দুদকে দাখিলকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শাহাদৎ হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার রুমার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে যা উল্লেখ করা অনুসন্ধানকালে তাতে অসংগতি ধরা পড়ে। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ টাকা মূল্যের। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানকালে ২ কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার ৭০৬ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ উঠে আসে। তাতে ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করা হয়।
আরও পড়ুন: ভোটকেন্দ্র রক্ষাকবচের মতো পাহারা দিতে হবে: শামা ওবায়েদ
এছাড়া সম্পদ বিবরণীতে ব্যক্তিগত ঋণ, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে ঋণ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৬ টাকা দেখানো হয়। কিন্তু দুদকের যাচাইকালে সম্পদ বিবরণী দাখিলের পূর্বেই তা পরিশোধ করা হয়েছে বলে উঠে আসে। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে বাদী জানায়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামী তানিয়া আক্তার রুমা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বপ্রথম আয়কর নথি খোলেন। ওই বছরে তিনি করযোগ্য আয় দেখিয়েছিলেন তিন লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৬ টাকা। পাশাপাশি বৈধ আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ৫৫ লাখ ১ হাজার ১৬২ টাকা এবং উক্ত সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখিয়েছিলেন ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৪’শ টাকা। এছাড়া ওই বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে এক লাখ দশ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সেই হিসাবে ওই সময়ে তিনি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৭৬২ টাকা মূল্যের মোট সম্পদের মালিক ছিলেন।
কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানকালে ২ কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার ৭০৬ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ উঠে আসে। যা পূর্বের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর জ্ঞাত আয় থেকে এক কোটি ছিয়াশি লাখ টাকা মূল্যের সম্পদের অসংগতিপূর্ণ রয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে বাদী উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোস্তাফিজ জানান, শাহাদৎ হোসেন ও তার স্ত্রীর নামে একই সাথে সম্পদ বিবরণী দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। যার মধ্যে তানিয়া আক্তার রুমার বিষয়টি প্রতীয়মান হওয়ায় মামলা করা হয়েছে। তাঁর নামে ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর ও খুলনায় জমি রয়েছে। এছাড়া শাহাদৎ হোসেনের বিষয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·