‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নকরণ, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় ও এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই জরুরি সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
সভায় জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি ও জেলা বাস মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, জেলায় মোট ৪০টি তেলের পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ সংকটে ইতোমধ্যে ১০টি পাম্প বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং অধিকাংশ পাম্পেই তেলের তীব্র সংকট চলছে। সংকট মোকাবিলায় পাম্প মালিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকার নির্ধারিত তেল বিক্রির নিয়মে সাময়িক পরিবর্তন এনেছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে পাম্পগুলোতে দৈনিক প্রতিটি মোটরসাইকেলে ১০০ টাকার এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার জ্বালানি তেল দেয়া হবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার বাসগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হবে।
সভায় জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি ওয়াহিদ মিয়া কুটি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার তেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তেলের ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেকেরও কম তেল পাঠানো হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যে কারণে কাঙ্ক্ষিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এখনই কোনো সমাধান না করা গেলে আসন্ন ঈদযাত্রায় বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে হবে।’
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ১৬০ কেজি চালের পরিবর্তে মৎস্যজীবীরা পাচ্ছেন মাত্র ৬০ কেজি
তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের তেল দেয়া হবে। কিন্তু শুক্র ও শনিবার তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই দুদিন তেল না পেলে রোববার (১৫ মার্চ) থেকে আমরা কাউকে আর তেল দিতে পারব না। তাই রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ে কথা বলে ফরিদপুরে তেলের সরবরাহ বাড়াতে হবে।’
তেলের এই আকালের মধ্যে বিভিন্ন পাম্পে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, ‘তেল কম দেয়ার কারণে বিভিন্ন পাম্পে আমাদের কর্মচারীদের মারধর করা হয়েছে। কেউ সাংবাদিক, কেউ পুলিশ, আবার কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বেশি তেল নিতে চাচ্ছেন।’ এসব অপতৎপরতা বন্ধে তিনি পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলে সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু, সে কারণে আমাদের সবাইকে সাশ্রয়ী ও সচেতন হতে হবে। তারপরও আজ চট্টগ্রাম বন্দরে ৫টি জাহাজ এসেছে। আমাদের ফরিদপুরে যাতে সরবরাহ ঠিক থাকে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান সিদ্দিকী এবং জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
]]>
১ দিন আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·