প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট দেয়ার দাবি

১ সপ্তাহে আগে
ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি লেয়ার (ডিম পাড়া মুরগি) খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে ডিমের যৌক্তিক দাম নির্ধারণ, বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট প্রদান, সরকারি মনিটরিংয়ে ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা, খামারিদের নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেয়াসহ ৮টি প্রস্তাব জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মিরপুর ডিওএইচএস-এ বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে 'বিপিআইএ' এর নেতারা এই প্রস্তাব জানান।


সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ হাবিবুল হকের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের মহাসচিব খন্দকার মহসিন।


এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যঅসোসিয়েশনের বিগত বছরগুলোর ডিমের বাজারের পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যায়, প্রতি বছর পবিত্র মাহে রমজান মাসে দেশে হোটেল রেস্টুরেন্ট, স্কুল কলেজ বন্ধ থাকা ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানাদি তেমন না হওয়াতে এবং বেকারি, বিস্কুট ফ্যাক্টরির উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে ডিমের চাহিদা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেকটাই কমে যায়। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ডিমের জেনারেল (ছোট ও মাঝারি খামার) উৎপাদন পর্যায়ে ফার্ম গেট প্রাইস সর্বকালের সর্বনিম্ন (বর্তমান উৎপাদন খরচের তুলনায়) পর্যায়ে নেমেছে, যা ছোট ও মাঝারি খামারিদের গভীর হতাশায় ও লোকসানের মধ্যে ফেলেছে।


এসময় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের টিকিয়ে রাখতে 'বিপিআইএ' এর থেকে ৮ দফা প্রস্তাব জানানো হয়। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
 

১. বর্তমানে ডিমের দামের (ফার্ম গেট প্রাইস) পতনে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জরুরি ভিত্তিতে নগদ আর্থিক প্রনোদনার ব্যবস্থা করতে হবে, যেহেতু সরকার ডিমের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন (কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ অনুসারে) সেহেতু সরকারের উৎপাদনকারী টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ও ডিমের উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রাখতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশেষ তহবিল গঠন করে স্বল্প (নামমাত্র সুদে) সুদে- দ্রুত সময়ে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে, যেন এই সকল খামারিরা বর্তমান সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।           

 

২. কৃষি শিল্পের মতো পোল্ট্রি খামারের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ রিবেট প্রদান ও তার জন্য সর্ত সহজ করতে হবে (ট্রেড লাইসেন্স ও  প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের রেজিস্ট্রেশন দিয়ে এই সুযোগ প্রদান করা)। 


৩. ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অতিদ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


৪. প্রতি বছর রমজান মাসে সারা দেশে বা লেয়ার ফার্ম ঘন (যেখানে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয়) জেলাগুলোতে প্রানিসম্পদ অধিদফতর, কৃষি বিপণন অধিদফতর ও ভোক্তা অধিদফতরের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিমের মাধ্যমে প্রাণি সম্পদ অধিদফরে নিবন্ধিত জেনারেল (ক্ষুদ্র ও মঝারি) খামারিদের ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।


৫. বর্তমান সময়ে বিভিন্ন উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির বাস্তব পরিপ্রেক্ষিতে ডিম মুরগির সরকার ঘোষিত যৌক্তিক দাম অনতিবিলম্বে পুননির্ধারণ করতে হবে। 


৬.ডিমের উৎপাদন খরচ কমাতে জেনারেল খামারিদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে পোল্ট্রি শেড নির্মাণ, খাঁচা তৈরি/ক্রয় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা নির্মাণের জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে।


৭. ডিম মুরগির বাজারে ফড়িয়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব কমানোর জন্য, ডিম মুরগির বাজার ব্যবস্থায় দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। 
 

৮. পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সমস্যা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আগামী দিনে ডিম মুরগির চাহিদা বৃদ্ধির সাথে উৎপাদন ও যোগানের সাথে তাল মিলিয়ে ডিম মুরগির গুনগত মান বজায় রাখা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, ডিম ও মুরগির মাংসের আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির পথ উন্মুক্ত করতে ‘জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ গঠন করতে হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন