প্রথম ধাপে বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড পেলেন ৫৪৪ জন

১ দিন আগে
প্রথম ধাপে বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন ৫৪৪ জন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড তালিকা প্রণয়নের সময় কোনো দল, মত দেখা হয়নি। যদি হতো তাহলে সরকারি লোকজন এই তালিকা করতেন না। দলের লোকজন করতেন। আমি নিজেও এসেছি, তালিকা প্রণয়নের কাজ দেখতে।’


তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে একটি সরকার যখন গঠিত হয়; তখন সেই সরকার হয়ে যায় সবার। সব দলের হয়ে যায় সরকার। সেখানে যদি বিভাজন থাকে তাহলে একটি অংশ সমাজে পিছিয়ে পড়বে। সেটি বর্তমান  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না। কারণ কী? কারণ আমাদের সমাজের একটি অংশ যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন করা সম্ভব না।’


বক্তব্যের শেষে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, শাখারিয়া ইউনিয়নের আমরা জরিপ করেছি। এই ওয়ার্ডে মোট ৮৫৯টি পরিবার। পর্যায়ক্রমে সবাই এই ফ্যামিলি কার্ড পাবে। এভাবে একটা সময় দেশের সব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে। তবে গুরুত্ব অনুযায়ী ভাতা বা উপকারভোগী হবেন পরিবারের সদস্যরা।


আরও পড়ুন: বিএনপি যা বলে, তা করে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী


অনুষ্ঠানে দর্শকস্থানের বসে থাকা ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীদের সঙ্গে কথা হয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আজ টাকা পেয়েছেন গোপালবাড়ীর ৫৫ বছর বয়সী মোর্শেদা জান্নাত। তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। তার দিনমজুর স্বামীর পক্ষে সংসারের খরচ শেষে ওষুধের পিছনে অর্থ ব্যয় করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ছেলের সামান্য আয় দিয়ে প্রতিমাসে টানাটানি থেকে যেত। আজ সকালে মোবাইলে টাকা আসছে। এখন আর কারও কাছে ধার নেয়া লাগবে না বলে অত্যন্ত খুশি হন তিনি।


পারভীন বেগম নামে আরেক নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এখান থেকে কয়েক মাসের টাকা জমাবো। সেই জমানো টাকা দিয়ে ছাগল হোক, মুরগি হোক কিনব। সরকারের কাছে থেকে যে টাকা পেয়েছি, এটা শুধু খেয়ে খরচ করব না।’


আরও পড়ুন: নাটোরে ফ্যামিলি কার্ড পেলেন ৩৭৮ নারী, মোবাইলে গেল টাকা


জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বগুড়ায় মোট ৫৪৪ জনকে কার্ড দেয়ার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ ৪৯৬টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। তারা সকালেই নিজেদের মোবাইলে ২৫০০ টাকা পেয়ে গেছেন। বাকিরা  কারিগরি ত্রুটির জন্য আজ কার্ড হাতে পাননি।


কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন