বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে (বুথ) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মোট ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালটে (সংসদ ও গণভোট) ভোট দিতে হবে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের হিসাব বলছে, ভোটার প্রতি ২টি ব্যালটের আদর্শ সময় গড়ে ১০০ সেকেন্ড সময় নিলে সারাদিনে সর্বোচ্চ ৬৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট সম্ভব-অর্থাৎ প্রায় ৮ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। বাকি ৪ কোটি ৫৯ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি ভোটার সময়ের অভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন ও গণভোটে ৩১৫০ কোটি টাকা ব্যয়, যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
তবে একটি ব্যালটের জাতীয় গড় সময় ৭৬ সেকেন্ড ধরলে সারাদিনে সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট সম্ভব। অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন ভোটার ভোট দিতে পারবেন। বাকি ২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ভোটার সময়ের অভাবে ভোট দিতে নাও পারতে পারেন।
সময়সীমা ৯০ সেকেন্ডে নামলে সম্ভাব্য ভোট ৭০ দশমিক ৬১ শতাংশে উঠবে। বিপরীতে সময় ১২০ সেকেন্ড হলে তা নেমে আসবে ৫২ দশমিক ৯৬ শতাংশে, আর ১৫০ সেকেন্ড হলে মাত্র ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশে।
বুথভিত্তিক হিসাবে, ১০০ সেকেন্ড ধরে নিলে প্রতি বুথে দিনে ৩২৪ জন, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৩৬ জন ভোট দিতে পারবেন। প্রতি কেন্দ্রে দিনে গড়ে প্রায় ১,৮৭৩ জন ভোট দেয়ার সক্ষমতা থাকবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইডিডি) জরিপের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে প্রতি ঘণ্টায় ১০-১৩ শতাংশ ভোট কমে যেতে পারে। এছাড়া ভোটার প্রতি দুটি ব্যালটে ভোটদান সময় ১০০ থেকে ১২৫ সেকেন্ড হতে পারে।
জাতীয় গড় ভোট কাস্টিং হার ৫৮-৬৫ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করার সম্ভাবনা বেশি; তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি ভোট কাস্টিং টাইম ৭৬ সেকেন্ডের ভেতরে নিয়ে আসতে পারে তাহলে জাতীয় ভোট কাস্টিং হার ২.৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়তে পারে, এ সম্ভাবনা উল্টোও হতে পারে যদি তারা গণভোটের ব্যালট পড়ে দেখে সময় ১৫০ সেকেন্ড অতিক্রম করেন।
জরিপে আরও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, শহরে এলাকায় তুলনামূলক কম (৫৮-৬১ শতাংশ) এবং গ্রামীণ ও আধা-শহরে এলাকায় বেশি (৬৫-৭১ শতাংশ) ভোট কাস্টিং হতে পারে। ভোট কাস্টিংয়ে সময় বেশি লাগলে যারা খুব আগ্রহী ও সংগঠিত ভোটাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পেতে পারে কিন্তু যারা অনিশ্চিত বা ক্ষুব্ধ তারা ভোট দিতে নাও পারে- দলীয় শক্তিশালী মবিলাইজেশন কৌশল মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। ভোটদানে যত বেশি সময় ব্যয় করা হবে ভোট কাস্টিং হার তত কমবে, ফলে ভোটে মানুষের প্রকৃত মতামত পুরোপুরি প্রতিফলিত না হতে পারে এ মাধ্যমে সুসংগঠিত আদর্শভিত্তিক দল তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হতে পারে।
আরও পড়ুন: ভোটের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ কখন থেকে?
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে। সেই সময় ভোটহার ছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। পরবর্তী হিসাবে ১৯৭৯ ও ১৯৮০-এর দশকে ভোটহার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করেছিল। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ছিল ৫৫.৪৫ শতাংশ, যা ছিল স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ভোটিং‑এর প্রতিফলন।
১৯৯৬ সালে দুইবার নির্বাচন হয়েছে -ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ নির্বাচন মাত্র ২১ শতাংশ ভোটহার পেয়েছিল, কারণ প্রায় সব বড় বিরোধী দল সেই নির্বাচন বয়কট করে। একই বছরের জুনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম নির্বাচনে ভোটহার ফিরে আসে ৭৪.৯৬ শতাংশ পর্যন্ত।
২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোটহার ছিল যথাক্রমে ৭৫.৫৯ শতাংশ ও ৮৭.১৩ শতাংশ, যেখানে ২০০৮ সালে সর্বোচ্চ ভোটহার রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বড় দলগুলো বয়কট করায় ভোটহার নেমে আসে ৪০ শতাংশের নিচে। ২০১৮ সালে ভোটহার আবার বাড়ে ও ৮০.২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের ১২তম নির্বাচনেও ভোটহার ছিল প্রায় ৪১.৮ শতাংশ, যা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তুলনামূলক কম রেকর্ড হয়েছে।
]]>
৪ সপ্তাহ আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·