পহেলা বৈশাখ ঘিরে দেশে-বিদেশে বাড়ছে মাটির পণ্যের কদর, ব্যস্ততা বাউফলের পালপাড়ায়

১ সপ্তাহে আগে
পহেলা বৈশাখ বাংলা বর্ষবরণকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর বাউফলের পালপাড়ার মৃৎ শিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখানকার তৈরি মাটির পণ্য ঢাকার আড়ং ছাড়াও দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। মৃৎ শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভালো মানের মৃৎ শিল্প তৈরি করে বিদেশেও রফতানি করা সম্ভব।

পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের পালপাড়া মাটির পণ্য তৈরির জন্য প্রায় অর্ধশতক ধরে পরিচিত। এক সময় এখানকার মাটির খেলনা বৈশাখি মেলায় বিক্রি হত এই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে। প্রযুক্তি ও নকশার আধুনিকতায় এখন এর বাজার ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকাতেও। এখন শুধু খেলনা নয়, মাটির তৈরি ফুলদানি, ডিনার সেট, কাপ-পিরিচ, মগসহ বিভিন্ন শো-পিসও তৈরি হয়।

 

পালপাড়ার মৃৎ শিল্পের অন্যতম রূপকার ছিলেন রাজেশ্বর পাল। এক সময়ে তিনি মেলায় ঘুরে ঘুরে খেলনা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতেন। যদিও তিনি আজ বেঁচে নেই, তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য এখনও আড়ংয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ হচ্ছে।

 

পালপাড়ার মৃৎ শিল্পের সঙ্গে প্রায় অর্ধশত পরিবার যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছেন অনেক শ্রমজীবী। সরজমিনে দেখা যায়, বর্ষবরণকে সামনে রেখে পান্তার থালা, বাসন, মগ, মিষ্টির পাতিলসহ বিভিন্ন আইটেম তৈরি করা হচ্ছে। এই অর্ডারি পণ্যের শেষ পর্যায়ে এখন তারা বিপণন নিয়ে ব্যস্ত।

 

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে স্ট্রবেরি চাষে তরুণের সাফল্য, বছরে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা

 

তবে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখের আগে স্থানীয় বাজারে প্রচুর অর্ডার থাকলেও, চলতি বছর মাটির দামসহ অন্যান্য মালামালের দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসা কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন মৃৎ শিল্পের সঙ্গে যুক্তরা।

 

বাউফল পালপাড়ার মৃৎ শিল্পের সভাপতি বিশ্ব্যেশর পাল বলেন, পহেলা বৈশাখের পণ্য কিনতে এখানে ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা ভিড় করছেন। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করতে পারব। আমাদের পণ্য ঢাকার আড়ংসহ বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশের বাইরে রফতানি হচ্ছে। আর্থিক সহযোগিতা বেশি থাকলে আমরা আগের মতো বড় পরিসরে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারতাম। বর্তমানে মাটির সমস্যা আমাদের রয়েছে।

 

শুধু বর্ষবরণ নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের ঘরের শোভা বাড়াতে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এখানকার মাটির তৈরি পণ্যের। আগে এখানে ১০০ থেকে ১৫০ জন শ্রমিক কাজ করতেন, এখন মাত্র ৩০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কাজ করছেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন