পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১ দিন আগে
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের পর বৈঠক অনুষ্টিত হয়।


হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের অধীনে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।


তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ ক্ষেত্রে সরকার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি দমনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।


বৈঠকে উভয় পক্ষ রফতানি ও আমদানি বহুমুখীকরণ, কৃষিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ক্রীড়া সহযোগিতা, জ্বালানি বাণিজ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক খাতে সহযোগিতার বিষয় চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচিত হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টার সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।


বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাতের উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ উদীয়মান বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।


আরও পড়ুন: বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক: শামা ওবায়েদ


হাইকমিশনার প্রযুক্তি স্থানান্তরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জানান, মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে এবং এ খাতে তরুণ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে। 


এছাড়া দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ ব্যবসায়িক কাউন্সিল গঠনের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি মালয়েশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সুবিধা প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জনশক্তি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষ করে তুলতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও আলোকপাত করেন।


বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষাবিদরাও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান রাখছেন।


অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে বেসরকারি খাতের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, সিরামিক, পাটজাত পণ্য এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি, খাবার ও ভাষা তুলে ধরতে একটি যৌথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও অন্বেষণের প্রস্তাব করেন।


জবাবে হাইকমিশনার জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিনিয়োগ বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে; এর মধ্যে রবি ও এডটকো উল্লেখযোগ্য, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থন কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।


বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন