নড়াইলে ডিভোর্স দেয়ায় গৃহবধূ ওপর হামলা, শরীরে অর্ধশত সেলাই

১ সপ্তাহে আগে
নড়াইলের কালিয়ায় মিতু খানম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তারই সাবেক স্বামী নুরে আলম মল্লিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনগত মধ্যরাতে নড়াগাতী থানার মাউলী ইউনিয়নের তেলিডাংগা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ বর্তমানে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন।


রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস সময় সংবাদকে ভুক্তভোগী মিতুর আহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


আহত মিতু খানম কালিয়া উপজেলার তেলিডাঙ্গা গ্রামের মৃত. ওবায়দুল শেখের মেয়ে। মিতুর সাবেক স্বামী নূরে আলম মল্লিক একই উপজেলার মীর্জাপুর গ্রামের মৃত. টুকু মল্লিকের ছেলে।


ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ বছর আগে মিতু ও নূরে আলমের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। নূরে আলম জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো ধরনের কাজ কামের সাথে যুক্ত ছিলেন না। অভাবের সংসারে তাদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। ক্রমাগত শারীরিক নির্যাতনের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে মিতু তার স্বামী নূরে আলমকে ডিভোর্স দেন। পরে তার আট বছরের ছেলেকে নূরে আলমের পরিবার তাদের কাছে রেখে দেন। আর পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে খুলনায় তার বোনের বাসায় চলে যান মিতু।


আরও জানা যায়, শনিবার (৪মার্চ) দুপুরের দিকে মিতু খুলনা থেকে কালিয়া হয়ে বাবার বাড়ি তেলিডাংগা গ্রামে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হন মিতু। এ সময় তার ওপর হামলা করে তারই সাবেক স্বামী নূরে আলম। ব্লেডের এলোপাতাড়ি টানে মুখমণ্ডলের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয়। মিতুর ডাক চিৎকারে তার পরিবারের সদস্যরা বেরিয়ে আসলে পালিয়ে যায় নূরে আলম। পরে মিতুর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।


মিতু খানম অভিযোগ করে বলেন, 'রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হই। নূরে আলম (সাবেক স্বামী) পিছন থেকে ঝাপটে ধরে ব্লেড দিয়ে আমার চোখ, মুখে, নাক সহ শরীরের অন্যান্য অংশে আঘাত করতে করতে বলে তোকে জীবনের মতো শেষ করে দেবো। তখন আমার চেঁচামেচিতে আমার ভাই মহিদুল এসে উদ্ধার করে। সে কোন কাজ কাম কিছু করত না। নেশায় আসক্ত ছিল, ইয়াবার ব্যবসা ও করে। তার অত্যাচারে নিজের জীবন বাঁচাতে ডিভোর্স দিয়েছিলাম। বোনের বাড়ি থেকে আসার সময় সে খেয়াঘাটে আমাকে দেখে। আর রাতে আমাকে মেরে ফেলার জন্য এমন হামলা চালায়। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।'


আরও পড়ুন: মাদ্রাসাছাত্রীকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, সুপার গ্রেফতার


তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত নুরে আলমের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। যে কারণে অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস সময় সংবাদকে বলেন, রাত ২টার দিকে মিতু খানম নামের এক রোগীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আনা হয়। তার চোখের কোনায়, মুখের বিভিন্ন অংশে, নাক, থুতনিসহ বাম হাতের তালুতে ব্লেড জাতীয় ধারালো কোনো উপকরণের  আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। প্রায় অর্ধশত সেলাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতচিহ্ন গুলো থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সক্ষম হই। রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।


এ বিষয়ে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম বলেন, এ ব্যাপার এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। ঘটনার জানতে পারার পরপরই সত্যতা জানতে আমরা থানা থেকে ফোর্স পাঠাই। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন