নেতানিয়াহু কি বেঁচে আছেন, তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে যা জানা গেল

২ দিন আগে
ইরানে কয়েকদিন আগে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়। এতে অনেকের সাথে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি মারা যান। পরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে তেহরান। এতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার খবরও প্রকাশ পায়।

সোমবার ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হতে পারেন এমন ধারণা  প্রকাশ করা হয়। 

 

ফার্সি ভাষার ওই প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার প্রমাণ বা কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষতির নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। বরং এতে বেশ কিছু পরিস্থিতিগত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ভিডিও ক্লিপ না থাকা, হিব্রু ভাষার গণমাধ্যমে তার বাড়ির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কথিত সফর স্থগিত করা এবং রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি পাঠ, যেখানে কথোপকথনের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।

 

আরও পড়ুন:নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে ইরান যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত: ট্রাম্প


তাসনিমের প্রতিবেদনটি রাশিয়ান গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি সেকেন্ডহ্যান্ড দাবির উপরও নির্ভর করে, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরান নেতানিয়াহুর আস্তানায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং তার ভাই নিহত হয়েছেন। তবে, তাসনিম উল্লেখ করেছে যে, এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

 

Unverified social media claims alleging that Iran bombed the home of Israeli PM Benjamin Netanyahu and killed his brother, while wounding National Security Minister Itamar Ben-Gvir, have circulated widely online following comments by former US intelligence officer Scott Ritter.

— Tasnim News Agency (@Tasnimnews_EN) March 9, 2026


এদিকে, জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই লেখাটি ইরান এবং ইরানপন্থি তথ্য যুদ্ধের একটি পরিচিত ধরন, যেখানে জনসাধারণের তথ্যের বাস্তব টুকরোগুলোকে একটি নাটকীয় আখ্যান দেয়া হয়। তারপর এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন তারা কোনো লুকানো ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছে।

 

তাসনিমকে ব্যাপকভাবে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সাথে যুক্ত বা ঘনিষ্ঠ হিসাবে বর্ণনা করা হয় এবং মার্কিন ট্রেজারি এই আউটলেটটিকে আইআরজিসির সাথে যুক্ত হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

 

এতে আরও দাবি করা হয়, নেতানিয়াহু ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি সরকারি বিবৃতি দেন এবং ইসরাইলি সরকারের প্রধান পোর্টালেও তাকে ৬ মার্চ বিয়ারশেবারের একটি জায়গা পরিদর্শন করতে দেখা যায়। 

 

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে স্বাধীন প্রতিবেদনগুলোতেও তার জনসাধারণের কার্যকলাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ম্যাক্রনের সাথে একটি ফোন কলও রয়েছে যা এলিসি দ্বারা রিপোর্ট করা হয়েছিল এবং ৫ মার্চ দ্য জেরুজালেম পোস্ট প্রতিবেদন করেছিল।


প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের সময় নেতানিয়াহুর অবস্থান সম্পর্কে ইরানের দাবি এই প্রথম নয়। টাইমস অফ ইসরাইলের মতে, যুদ্ধের শুরুতে, ইরানি সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, নেতানিয়াহুর ভাগ্য ‘অস্পষ্ট ছিল, যখন নেতানিয়াহুর কার্যালয় একটি কথিত হামলাকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। ২ মার্চ সিনহুয়াও জানিয়েছে যে, জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের কাছের বাসিন্দারা একই রকম ইরানি দাবির পরেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কোনো লক্ষণ দেখেননি।


দ্রুত চলমান সংঘাতের সময়, নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিওর অনুপস্থিতি, অস্পষ্ট সরকারী বিবৃতি, অথবা কোনো অতিথির সময়সূচীর পরিবর্তন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কাঁচামাল হয়ে উঠতে পারে। তাসনিমের সর্বশেষ প্রতিবেদনটি ঠিক তাই বলে মনে হচ্ছে। এ থেকে কোনো কিছু প্রমাণ হয়না। বলছে জেরুজালেম পোস্ট।

 

আরও পড়ুন:কার্যালয়ে ইরানের হামলার দাবির কয়েক ঘন্টা পর জনসমক্ষে নেতানিয়াহু

 

এতে আরও দাবি করা হয়, ইসরাইলি জনজীবনে, যুদ্ধের সময় সিনিয়র নেতাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায়শই পরিবর্তিত হয় এবং সরকারী যোগাযোগ নিয়মিতভাবে টেক্সট আকারে জারি করা হয়। এর কোনোটি  হত্যা বা গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ নয়। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত, কোনো নির্ভরযোগ্য পাবলিক সূত্র তাসনিমের তত্ত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন