কোরআনে জাকাত প্রদানের উপযুক্ত শ্রেণির বিষয়ে বলা হয়েছে,
নিশ্চয়ই সদকা (জাকাত) দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, যারা জাকাত সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের সাহায্যে, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বিধান। (সুরা তওবা ৬০)
কাকে জাকাত দেওয়া যাবে, কাকে নয়?
জাকাত মূলত অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত হলেও কিছু নিকট আত্মীয়কে তা দেওয়া যায় না। যেসব আত্মীয়দের ভরণপোষণের দায়িত্ব দেওয়া ইসলামে বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব), যেমন—পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নান-নানী, ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের, তাদের জাকাত দেওয়া নিষিদ্ধ। স্বামীর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য, কারণ স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর ফরজ। তাই স্বামী তার জাকাতের অর্থ স্ত্রীকে দিতে পারবেন না।
কিন্তু স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। স্ত্রী যদি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হন এবং তার স্বামী প্রকৃতপক্ষে দরিদ্র হন, তাহলে তিনি স্বামীকে জাকাত দিতে পারবেন। কারণ, স্ত্রীর জন্য স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্ব শরিয়ত নির্ধারণ করেনি।
আরও পড়ুন: জাকাত আদায়ের সেরা মাস রমজান
স্বজনদের জাকাত দেয়া নিয়ে করণীয়
স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিতে পারার মতোই অন্যান্য আত্মীয়, যেমন—চাচা, মামা, খালা, ফুফু এবং ভাই-বোনদেরকেও জাকাত দিতে পারবেন, যদি তারা প্রকৃত অভাবী হন এবং তাদের দায়িত্ব বহনের বাধ্যবাধকতা না থাকে।
আত্মীয়কে জাকাত দিলে দ্বিগুণ সওয়াব
আত্মীয়দের মধ্যে যদি কেউ অভাবী থাকে, তাহলে তাদেরকে জাকাত দেয়া সর্বোত্তম। এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্কও সুদৃঢ় হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
সাধারণ গরিবদের সদকা দিলে তা শুধু সদকা হয়, আর আত্মীয়কে দিলে তা সদকা ও আত্মীয়তার হক আদায়ের উভয় সওয়াব হয়। (মুসনাদে আহমাদ ১৫৭৯৪, সুনানে নাসাঈ ২৫৮২)
জাকাতের অর্থ দেয়ার সময় করণীয়
অসহায় ব্যক্তিকে জাকাত দেওয়ার সময় তাকে এটা বলে দেওয়া জরুরি নয় যে এটি জাকাতের অর্থ। যদি স্বামী বা আত্মীয়রা জাকাত গ্রহণে অপমানিত বোধ করেন, তবে উপহার বা হাদিয়ার নামে তাদের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।
]]>
৬ দিন আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·