নিজের অটোরিকশা বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারান চালক, ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

২ সপ্তাহ আগে
ফেনীতে নিজের অটোরিকশা ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় চালক শান্ত নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৯ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

গ্রেফতার তিনজন হলেন: চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে সোহাগ (২৪), নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার চর এলাহী নগর ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামের আবুল কালামের ছেলে নাসির (৪৫) ও একই এলাকার মোহাম্মদ মফিজের ছেলে ইমাম উদ্দিন ইমন (৪০)।

 

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার রাতে ফেনীতে যাত্রীবেশে শান্তর অটোরিকশায় ওঠেন দুই ব্যক্তি। গাড়িটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে কিছুদূর যাওয়ার পর সদর উপজেলার রামপুর রাস্তার মাথায় একটি নির্জন স্থানে পৌঁছায়। এ সময় চালক শান্তকে ধাক্কা মেরে ডোবায় ফেলে দিয়ে অটোরিকশা নিয়ে পালাতে থাকে ওই ছিনতাইকারীরা।

 

ছিনতাই হওয়া গাড়িটি বাঁচাতে ডোবা থেকে উঠে পেছনে ছুটতে থাকেন শান্ত। এ সময় মহাসড়কের লালপোল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ির চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

 

ওই ঘটনায় নিহত শান্তর বাবা কানু কুমার সাহা ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

 

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে পিস্তল ছিনতাই

 

পুলিশ জানায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রোববার রাতে কিশোর চালক শান্তর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীবেশে ওঠে ছিনতাই চক্রের সদস্য নোয়াখালীর ইমাম উদ্দিন, নাসির ও চট্টগ্রামের সোহাগ। পরে মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে শান্তকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে তারা।

 

এরপর গাড়িটি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলার আনোয়ারের গ্যারেজে নিয়ে যায় ইমাম। সেখানে আনোয়ার ও তার এক বন্ধুর সহায়তায় অটোরিকশার যন্ত্রাংশগুলো খুলে ফেলা হয়। ছিনতাই করা মোবাইলটি নাসিরকে দিয়ে দেয়া হয়। পরে অটোরিকশার যন্ত্রাংশগুলো চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার আল-আমিন হাসপাতালের সামনে বিক্রি করা হয়।

 

খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে আটক করে। পরে ছিনতাই করা মোবাইলসহ নাসিরকে আটক করা হয়। এরপর সোহাগের স্বীকারোক্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলা থেকে ইমাম উদ্দিন ইমনকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকার আনোয়ারের গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধার করা হয়।

 

ফেনী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা জানান, 'তাদেরকে অটোরিকশা ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। নাসিরের বিরুদ্ধে একাধিক ছিনতাই মামলা ও সোহাগের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।'

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন