নামমাত্র খনন দেখিয়ে প্রকল্পের দেড় কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

৩ দিন আগে
ঝালকাঠিতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। কাগজে কলমে কাজও প্রায় শেষ। প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর হয়েছে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনার ভাগার রয়ে গেছে ঠিক আগেরই মত।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে হয়েছে প্রকল্পের অর্থ লোপাট। 
বছরের পর বছর খনন না করায় ঝালকাঠি পৌর শহরের সাতটি খাল ময়লা-আবর্জনার ভাগারে পরিণত হয়ে মরতে বসেছে। একইসঙ্গে রোগজীবাণু আর দুর্গন্ধে নাকাল শহরের এই সাতটি এলাকার কয়েক দশক মানুষ।


দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় পৌরসভা নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতটি খাল খনন শুরু হয়। এক কোটি ৩৩ লাখ ৩৭৭ টাকার প্রকল্প ব্যয়ে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আজমীর বিল্ডার্স কাজ পায়। দরপত্র অনুযায়ী খনন কাজের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ এক বছর আগে। কিন্তু খাল খননের দৃশ্য যেন কাগজে কলমেই বন্দি।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, শহরের দু’একটি খালে নামমাত্র খনন দেখিয়ে প্রকল্পের অর্থ লোপাট হয়েছে। ফলে দখল দূষণ আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে।


আরও পড়ুন: যশোরে মৃতপ্রায় ২০ খাল খননের উদ্যোগ


স্থানীয় মনির হোসেন বলেন, ‘শহরের সাতটি খাল খননের নামে পৌরসভা বড় অংকের বাট করেছে। সাতটি খালের মধ্যে মাত্র তিনটি খালে নামমাত্র খনন দেখানো হয়েছে। অন্য খালগুলোতে কোনো প্রকার কাজই হয়নি।’


শহরের ফকির বাড়ি এলাকার মনসুর আলী বলেন, অর্থলোপাটের জন্যই নাম দেখানো এই খাল খনন নাটক করা হয়েছে। সবগুলো আগের মতোই ময়লার ভাগাড় রয়ে গেছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।


শহরের রাজবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ আল আমিন বাটলাই বলেন, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার অসংখ্য পরিবার। খালের উৎস মুখ না কাটায় পানি ও ময়লা আবর্জনা অপসারণের কোনো জায়গা রাখা হয়নি। ফলে বর্ষার আগেই সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা চরম পর্যায় পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি।


আরও পড়ুন: মাদারীপুরে মরা খাল খননের উদ্যোগ, তিন ফসল ঘরে তোলার আশা


তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার একে অপরকে দুষছেন।


এ বিষয়ে ঠিকাদার এবিএম সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘এর আগে গত ৫০ বছরেও এ খালগুলো খনন হয়নি। তাই দখল-দূষণের মুখে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে খালগুলোর খনন কাজ করতে হয়েছে। পৌরসভা কাজের বাকি অর্ধেক পরিমাণ পাওনা বিল এখনও পরিশোধ করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার।


আর এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পৌরসভার প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে। শিগগিরই খালগুলোর অসম্পন্ন খননের কাজ শেষ করে পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।’


প্রসঙ্গত, ঝালকাঠি পৌরসভার মোট লোক সংখ্যা ৫০ হাজার। এ সাতটি খালের আশপাশে ঘিরে অন্তত ২০ হাজার মানুষের বসবাস।
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন