সংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কায় নরসিংদী জেলাবাসী, আতঙ্কে রয়েছে জেলার সাধারণ ভোটার। জেলখানায় লুট হওয়া চায়না ও বিডি রাইফেল এবং শটগানসহ ৮৫টি অস্ত্র লুট হয়েছে। এর মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি ২৭টি অস্ত্র ও সাড়ে ৬ হাজার গুলি।
২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী গত ১৮ মাসে জেলায় ১০৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব খুনের ঘটনায় ১৪৫টি হত্যা মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
সূত্র জানায়, গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে খুন হয় ছয়জন, আগস্টে ২৩, সেপ্টেম্বরে ১২, অক্টোবরে ১২, নভেম্বরে ৬, ডিসেম্বরে সাতজন খুন হন। তা ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে খুন হন ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে চার, মার্চে ৯, এপ্রিলে ১০, মে মাসে ১২, জুনে ৫ জন, জুলাইয়ে তিনজন, আগস্টে তিন, সেপ্টেম্বরে আট, নভেম্বরে তিনজন, ডিসেম্বরে সাতজন খুন হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরও সাতজন খুন হন।
আরও পড়ুন: বরিশালে সক্রিয় অটোরিকশা ছিনতাই চোরচক্র, ২ মাসে ১৫ খুন
লুণ্ঠিত অস্ত্র আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালু ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হচ্ছে এ সব অবৈধ অস্ত্র ও গুলি। এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছে সচেতন মহল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত ১৮ মাসে উদ্ধার হয়েছে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রায় দুই হাজার রাউন্ড গুলি।
২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলা, কারাফটক ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ফলে সেই সময়ে কারাগারে বন্দি থাকা ৮২৬ কয়েদির সবাই পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় লুট করা হয় ৮৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও আট হাজার ১৫ রাউন্ড গুলি।
পরে দফায় দফায় আত্মসমর্পণ ও গ্রেফতারের মাধ্যমে চলে যাওয়া বন্দীদের মধ্যে ৪৮৬ জন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন এবং ১৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া লুট হওয়া ৮৫টি অস্ত্রের মধ্যে দেড় বছরে ৫৮টি উদ্ধার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৮ হাজার ১৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়নি ৬ হাজার ৩৩৬ রাউন্ড গুলি।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে এক বছরে ১১১ খুন, নেপথ্যে কী?
নরসিংদী জেলার সবচেয়ে ক্রাইম জোন খ্যাত রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলের বাঁশগাড়ী ও সায়দাবাদ গ্রামে অপরাধীরা প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ তিনটি রাইফেল বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। এসব ভাইরাল হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
তাদের মনে প্রশ্ন অস্ত্রের হাট কি তাহলে নরসিংদীর রায়পুরায়? এখানেই কি অস্ত্র কেনাবেচা হয়? নরসিংদীতে এত অস্ত্র আসছে কোথা থেকে। এ ছাড়া প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চলছে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, হামলা এবং প্রকাশ্যে গোলাগুলি। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, অপরাধীদের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন।
নরসিংদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নিবারণ রায় বলেন, নরসিংদী জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে রায়পুরা ও নরসিংদী সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি রয়েছে তাতে করে সাধারণ ভোটাররা শঙ্কিত। নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে তিনি মনে করেন।
আরও পড়ুন: পরিত্যক্ত ভবনে একের পর এক খুন, নেপথ্যে এক সাইকো কিলার!
জেলাজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের যে আতঙ্ক সেটাতো জনমনে রয়েছেই। নতুন করে কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে অনেকগুলো এখনও উদ্ধার হয়নি। নির্বাচনকে ঘিরে এসব অস্ত্র ও গুলি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের আগেই অবৈধ সব অস্ত্র উদ্ধার করা জরুরি।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিয়ত খুন হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেককেই গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। এতে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। নরসিংদীর ৬টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয় রায়পুরা উপজেলায়। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে। ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট সকালে রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ও বালুরচর গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ছয়জন নিহত হন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নরসিংদী পরিদর্শনের পর তার নির্দেশে গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ সালে চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে কিছু অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গুলশানে মীমকে খুনে চরম নৃশংসতা, নেপথ্যে কী?
নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগ উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ নির্মূলে আমরা প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছি। আশা করি নির্বাচনের আগেই এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হবে।’
সচেতন মহল মনে করছে, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অস্ত্র-মাদক, ছিনতাইয়ের মূল কারণ। এক সময় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হলেও এখন ছিনতাই, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, ইন্টারনেট-ডিশ ও বালু ব্যবসাসহ নানা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
]]>

৪ সপ্তাহ আগে
৭







Bengali (BD) ·
English (US) ·