বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সেই স্মৃতিধন্য ঘাটে পা রাখলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। স্থানীয় জনপদ আর কিংবদন্তির মিশেলে তৈরি এ ঘাটটির বর্তমান অবস্থা দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের শেকড় ও ইতিহাসকে কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’
নদের চাঁদের এই অমূল্য স্মৃতি ধরে রাখতে ঘাটটিকে আধুনিকায়ন ও পর্যটনবান্ধব করার ঘোষণা দেন তিনি।
তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘কাগজে-কলমে নয়, দ্রুত দৃশ্যমান কাজ চাই।’
তিনি সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং নদীর পাড় সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইতিহাস প্রেমীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মধুমতী তীরের এই লোকগাথা বিশ্ব দরবারে নতুন করে পরিচিতি পাবে।
উল্লেখ্য, জনশ্রতি আছে, নদের চাঁদ একজনের নাম। নদের চাঁদ যাদু বিদ্যা শিখে মানুষ থেকে কুমিরে পরিণত হয়েছিলেন। পরে স্ত্রীর ভুলের কারণে আর মানুষ হতে পারেননি। মানুষ থেকে কুমির হওয়ার এই কিংবদন্তি কাহিনী আজও এ এলাকার মানুষের মুখে মুখে ভাসে। নদের চাঁদের এই কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে যাত্রা নাটক এমনকি সিনেমা। তার নামে রয়েছে পুরো একটি মৌজা, গ্রাম, বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
অনেকদিন আগের কথা। উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে অতি সাধারণ পরিবারে বাস করতো নদের চাঁদ। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত তার বাবা। নদের চাঁদের তখনও জন্ম হয়নি। জন্মের আগেই নদের চাঁদের বাবা গদাধর পদ্মায় মাছ ধরতে গিয়ে মারা যান। একমাত্র সন্তান বুকে ধরে দিন কাটে তার।
নদের চাঁদ এক সময় যৌবনে পা দেয়। মা চায় না নদে তার বাবার মতো মাছ ধরতে নদীতে যাক। সে চায় নদে বিয়ে করে সংসারি হোক, ক্ষেত খামারে কাজ করুক। কিন্তু সংসার বিবাগী নদের ঘরে মন বসে না। গভীর রাতে নদের কাউকে কিছু না বলে বেড়িয়ে পড়ে অজানার পথে। নদে দশ বছর পর আবার বাড়ি ফিরে আসল। এর মধ্যে তার মা বৃদ্ধা হয়ে গেছে। নদের মা এবার তাকে বিয়ে দিল। বউয়ের ভালবাসা তাকে ঘরে আটকে রাখলো। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছিল সুখ ও আনন্দে।
দীর্ঘ ১০ বছর নদের অন্তর্ধানের রহস্য খুলে বলে স্ত্রী সরলার কাছে। দশ বছর সে কামরুখ (আসাম) ছিল। ওখানে সে এক মহিলার কাছে যাদু বিদ্যা শেখে। এ যাদুর বলে সে কুমীর হতে পারে। এই কথা শুনে সরলা কুমির হওয়ার জন্য বায়না ধরে। গভীর রাতে নদে দুটি পাত্রের পানিতে মন্ত্র ফুঁক দিলো। তারপর সরলাকে বললো- ‘একটি পাত্রের পানি গায়ে ছিটিয়ে দিলে কুমির হবে, অন্য পাত্রের পানি ছিটালে সে আবার মানুষ হবে। নদের চাঁদ কুমীর হয়ে গেলো। ভয়ে সরলা দৌড়ে পালাতে গিয়ে পায়ের ধাক্কায় মাটিতে গড়িয়ে পড়লো পেয়ালার পানি।
বাড়িতে কান্নার রোল পড়লো। সে কুমির হয়ে গড়াগড়ি দিতে লাগলো। আর সরলার দিকে চেয়ে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলো। এর তিন দিন পর নদের চাঁদ কুমির বেশে বাড়ির পাশে মধুমতি নদীর পানিতে নেমে পড়লো। প্রতিদিন নদের চাঁদের মা নদীর ঘাটে বসে চোখের জল ফেলে। কয়েকদিন পর কামরূপ কামাখ্যা থেকে নদের চাঁদের মহিলা উস্তাদকে খবর দিয়ে আনা হয়েছিল।

৩ সপ্তাহ আগে
৬








Bengali (BD) ·
English (US) ·