দিয়াবাড়ি লেক পরিষ্কার হলেও গলার কাঁটা দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা

২ দিন আগে
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি লেকের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠা নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে উচ্ছেদ অভিযান চললেও তা টেকসই হয়নি। ফলে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করাকেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তিনি জানিয়েছেন, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে শিগগিরই সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। দখল ঠেকাতেও নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।

উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত দিয়াবাড়ি লেক কয়েকদিন আগেও ময়লা-আবর্জনায় ভরে ছিল। এখন অনেকটাই পরিষ্কার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫৪ দিন এবং নির্বাচনের পর আরও ৭ দিন; মোট ৬১ দিনের পরিশ্রমে লেকটি পরিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিজস্ব উদ্যোগেই এ কাজটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মতে, লেক পরিষ্কার হলেও এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অবৈধ স্থাপনা।

 

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন বলেন, লেকের দুই পাড়েই অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে কিছু স্থাপনা সরানো হলেও বেশিরভাগ এখনো রয়ে গেছে। এ বিষয়ে উত্তরা সিটি করপোরেশন অফিসের সামনে কয়েক হাজার মানুষ নিয়ে মানববন্ধনও করা হয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা সরানোর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

 

জানা গেছে, একসময় লেকটি অনেক গভীর ছিল। তবে আশপাশে বাড়ি নির্মাণের সময় পাইলিংয়ের মাটি লেকে ফেলায় ধীরে ধীরে এটি ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানির রংও বদলে গিয়ে অনেকটা আলকাতরার মতো কালচে হয়ে গিয়েছে।

 

আরও পড়ুন: খাল উদ্ধার / দখলদারদের নিজ উদ্যোগে সরার নির্দেশ, ক্ষতির দায় নেবে না সরকার

 

লেকের দুই পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির শোরুম, বসতবাড়ি, গরুর খামার, ভাঙারির দোকান এবং প্লাস্টিকের কারখানা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে ময়লা ফেলা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের ফার্ম করা হয়েছে। ফলে অনেক সময় এই পথ দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আগে এখানে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা ছিল।

 

ভাঙারি ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা মূলত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করেন। তাদের মতে, প্লাস্টিক মাটিতে পুঁতে রাখলে বা পানিতে ভেসে থাকলে দূষণ হয়। তারা এসব প্লাস্টিক সংগ্রহ করে রিসাইকেল করে নতুন পণ্য তৈরি করেন। তবে ফোম পোড়ানোর সময় গ্যাস বের হয়, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর।

 

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, লেকের আশপাশে একটি অবৈধ স্থাপনাও রাখা হবে না। রাজউক ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। যেসব স্থাপনার কারণে মানুষের ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, দিয়াবাড়ি লেকের দুই পাশে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও রাজউকের জায়গাতেই গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনায় এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দখল হয়ে যায়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দাবি, এবার অভিযান হবে টেকসই এবং উচ্ছেদের পর দখলদাররা আর ফিরে আসতে পারবে না।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন