ত্রয়োদশ নির্বাচন: যেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

৪ সপ্তাহ আগে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিয়ে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

এরইমধ্যে নির্বাচনে ভোটারদের জন্য করা ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

 

নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক জানিয়ে তিনি বলেন, আগের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার স্লিপে প্রার্থী নাম ও প্রতীক থাকতো না। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে ভোটার স্লিপ করা যাবে। বলেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) থেকে নির্বাচনী উপকরণ বিতরণ শুরু হবে। সকাল থেকে শুরু হলে সন্ধ্যার মধ্যে সব ধরনের উপকরণ কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে বলে আশা করি। এছাড়া নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক অবস্থা জানাতে কাল বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হবে।

 

মোট ভোটার-

 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা যায়, এ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার।  

ইসির তথ্যানুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন। ৩০০ আসনের মধ্যে সব চেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ২৭৫ জন।


ইসি সূত্রে আরও জানা যায়, দলগুলোর মধ্যে সব চেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি; ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ২৯১ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা)। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন (লাঙ্গল) এবং এনসিপির ৩২ জন (শাপলা কলি) প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।


প্রস্তুতি সম্পন্ন-

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য কমিশনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন,  ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন।  এ পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের সব ব্যালট পেপার চলে গেছে। সব নির্বাচনী উপকরণও চলে যাচ্ছে। ব্যালট পেপার রিটার্নিং অফিসারের কাজ কার্যালয় থেকে পর্যাক্রমিকভাবে অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে চলে যাচ্ছে। 

 

ইসি’র পরিপত্রে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর নির্বাচনি পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোট প্রদানের হারের প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে ফল প্রকাশ করা হবে। এ কেন্দ্রের কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

 

সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন পরিচালনায় প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

 

আজ থেকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ সেখানে অবস্থান করতে পারবেন না।

 

পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

 

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  ইসির সার্বিক প্রস্তুতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ-


একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয় ভোট গ্রহণের বহুদিন আগেই থেকেই। নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। নির্বাচনের পূর্বদিন প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসারের নিকট থেকে নির্বাচন সামগ্রী যেমন—ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালি, সিল, কলম, প্রয়োজনীয় ফর্ম ও ভোটার তালিকাসহ অন্যান্য নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ করেন। এরপর সকল ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ভোট কেন্দ্রে পৌঁছান। এরপর তিনি ভোটার তালিকা, ব্যালট পেপার, ফর্ম, প্যাকেট, ভোট কক্ষ, গোপন বুথ, ভোটের লাইন প্রস্তুত করেন এবং কক্ষভিত্তিক ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আলাদা করে রাখেন যাতে ভোট গ্রহণের দিন সুষ্ঠু এবং ভোট গ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়।

 

ভোট গ্রহণের দিন সকালে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলতে থাকে। প্রিজাইডিং অফিসার পোলিং এজেন্টদের নিয়োগপত্র গ্রহণ করে তাদের পরিচয়পত্র বিতরণ করেন। এরপর সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার প্রতিটি ভোট কক্ষের জন্য দুইজন পোলিং অফিসারসহ নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে নিজ নিজ কক্ষে যান। প্রতিটি কক্ষে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার যাওয়ার পর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে খালি ব্যালট বাক্স প্রদর্শন করা হয়। সকলের কাছে ব্যালট বাক্স খালি রয়েছে এটি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যালট বক্সসমূহ নির্দিষ্ট নম্বর যুক্ত সিল দ্বারা ঢাকনা লাগিয়ে ভোট প্রদানের উপযোগী করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এরপর পোলিং এজেন্টগণ কক্ষে ব্যবহারিত ব্যালট বক্সের নাম্বার এবং সিল নাম্বার লিখে রাখেন।


ভোটকেন্দ্রে অবাধ ও প্রচারণামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। ভোটার কোনো ধরনের প্রচারণামূলক সামগ্রী নিয়ে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যাতে ভোট কক্ষে কোনো ধরনের চিরকুট, সংকেত বা অনুনমোদিত কাগজ নিয়ে কেউ প্রবেশ করতে না পারে। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদারী আচরণ নিশ্চিত করা হয়। ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত দেশীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকতে পারেন; তাদের সঙ্গে পেশাদার ও সহযোগিতামূলক আচরণ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। আপনার একটি ভোটই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তাই নির্ধারিত দিনে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।
 


পোস্টাল ব্যালট নিয়ে  পরিবহন ও যানবাহনের  চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা-

 

 নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে যানবাহনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার আওতামুক্ত থাকবে ডাক বিভাগের যানবাহন। পোস্টাল ব্যালট পরিবহনের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

 

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ইসি’র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য ভোটারদের জন্য ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’-এ ভোটদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ সব ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডাক অধিদপ্তরকে। তাই জরুরি প্রয়োজনে ডাক বিভাগের যানবাহনগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

 

 ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট দেশে পৌঁছেছে-

 

‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।  ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেন এবং ৫ লাখ ১২ হাজার ৯১৬ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেন।

এছাড়া, ৫ লাখ ২ হাজার ৪৮৭ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯টি ব্যালট  এরইমধ্যে  রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বুঝে পেয়েছেন। বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে। ইসি’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত দেশের ভেতরে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮৪১ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ ৩৪ হজার ৩৭৬ জন ভোট দিয়েছেন এবং ৫ লাখ ৪০৮ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ১০ হাজার ১৫৪টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

সালীম আহমাদ খান আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

 

প্রচার-প্রচারণা বন্ধ-

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ।


যেভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে- 


ভোটগ্রহণ চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ২ ঘন্টা পর পর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ করবে ইসি।

 

এতে বলা হয়েছে, ‘ভোটগ্রহণ শেষে, ভোট গণনার পর প্রিজাইডিং অফিসার হতে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র হতে প্রকাশ করা হবে। এই কার্যক্রম ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টা হতে শুরু করে বেসরকারি ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

 

প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও প্রেরণ: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিবেদন ও প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহের
দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর, তাদের জন্য নির্ধারিত অঞ্চলের নাম ও নির্ধারিত ইন্টারনাল একাউন্ট বা টেলিফোন নম্বর আলাদাভাবে জানানো হবে। উল্লিখিত তথ্যাদি প্রাপ্তির পর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত ‘প্রাথমিক ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ হতে কোন্ কর্মকর্তা ফলাফল প্রেরণ করবেন তা ভোটগ্রহণের দিনের পূর্বেই জানিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা ও ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন তাও পূর্বাহ্নে জানিয়ে দিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত ইন্টারনাল একাউন্ট নম্বর, টেলিফোন ও মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কিনা বা সচল আছে কিনা অথবা ইন্টারনাল সাইট/ইন্ট্রানেট বা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনাল একাউন্ট ক্ষেত্র বিশেষে ই-মেইল যথাযথ কার্যকর আছে কিনা তা যাচাই করে নিবেন।

 

বার্তা শিট প্রস্তুত ও প্রেরণ:

 

ভোটগ্রহণ শেষে ‘বার্তা প্রেরণ শিট’ এর মাধ্যমে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল প্রেরণ করার লক্ষ্যে নির্ধারিত নমুনা (পরিশিষ্ট-ক) সংযুক্ত করা হলো। উল্লিখিত বার্তা ফরমে ক্রমপূঞ্জিত আকারে প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ইন্টারনাল সাইটে নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার একাউন্টে প্রেরণ করতে হবে। ইন্টারনাল একাউন্টে বার্তা প্রেরণে সমস্যা হলে অথবা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ই-মেইলে প্রেরণ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার সাথে নির্ধারিত টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রেরিত বার্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন এবং দ্রুততার সাথে বার্তা প্রদানের জন্য টেলিফোন বা মোবাইলে যোগাযোগ করবেন। প্রতিটি বার্তা শিটে রিটার্নিং অফিসার নিজে স্বাক্ষর করবেন। কোন কারণে রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর করতে না পারলে আংশিক ফলাফলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অথবা দায়িত্বশীল অন্য কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে বার্তা প্রেরণ করতে পারবেন। এজন্য অবশ্যই উক্ত কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর সত্যায়িত করে ভোটগ্রহণের পূর্বেই (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করতে হবে। তবে চূড়ান্ত বার্তা শিট অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের স্বাক্ষরে প্রেরণ করতে হবে এবং আরএমএস এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আপলোড করতে হবে।

 

ফলাফল ব্যবস্থাপনা ও প্রেরণ: প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ এবং গণভোটের বেসরকারি ফলাফল যথাযথভাবে প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে ইএমএস সফটওয়্যার এর ফলাফল ব্যবস্থাপনা/গণভোট ফলাফল ব্যবস্থাপনা মডিউল ব্যবহার করতে হবে। উল্লিখিত সফটওয়্যার এর মাধ্যমে তথ্য প্রেরণের জন্য প্রযোজনীয় সংখ্যক জনবলকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া এই সফটওয়্যারে এক্সেস করার জন্য ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে নির্বাচন কমিশনের ঠচঘ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সরবরাহকৃত গ্রামীণ এবং টেলিটকের সীম সম্বলিত মডেম ব্যবহার করবেন। এর বাইরে ফলাফল সংগ্রহ এবং ঘোষণা কেন্দ্রে লোকাল ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

 

প্রত্যেক সহকারী রিটার্নিং অফিসার তার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য দুইজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। প্রতি ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ফলাফল এন্ট্রি করার জন্য ল্যাপটপ, স্ক্যানার, প্রিন্টার এবং নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জগঝ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ল্যাপটপ, স্ক্যানার এবং প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটকেন্দ্রের ফলাফল জগঝ এ এন্ট্রি করার সময় একই ভোটকেন্দ্রের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সাথে এন্ট্রি নিশ্চিত করবেন।

 

মোবাইল ফোন-


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটার ও প্রার্থীসহ সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রে নির্দিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক, প্রার্থী ও ভোটাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন-

(ক) ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার;
(খ) ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ;
(গ) ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য;
(ঘ) নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনরত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক; এবং
(ঙ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট এবং ভোটার।

তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে কেউই গোপন কক্ষে (মার্কিং প্লেস) মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

এছাড়া ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট এবং উপরে উল্লেখিত নির্দিষ্ট পুলিশ ও আনসার সদস্য ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক-

৫৪০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এসেছেন। আমন্ত্রিতদের মধ্য থেকে ৬০ জন তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও জর্জিয়া থেকে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক আসছেন। আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়েচে ভেলে ও এপি থেকেও সাংবাদিক আসছেন। এছাড়া ইইউ থেকে ২২৩ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, আইআরআই থেকে ১২ জন পর্যবেক্ষক আসছেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বরগুনার ব্যালটে কিছু সমস্যা ছিল এবং ফরিদপুর-১ আসনের ব্যালটও সংশোধন করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনমুখী। সবাই ভোট দেবেন।


নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা ও ভোটদানের ধাপসমূহ প্রকাশ করেছে।

ধাপে ধাপে জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া-

১. ভোটের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই কিছু তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।
তথ্য সংগ্রহ: ভোটারদের নিজস্ব ভোটার নম্বর, ভোট কেন্দ্র এবং তালিকার ক্রমিক নম্বর আগেভাগেই জেনে নিতে হবে।
সহায়তা নম্বর: যেকোনো তথ্যের জন্য নির্বাচন কমিশনের টোল-ফ্রি নম্বর ১০৫-এ কল করে বিস্তারিত জানা যাবে।
ভোটার স্লিপ: কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ভোটার নম্বর লেখা নোট বা আগে থেকে সংগৃহীত ভোটার স্লিপ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

২. ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও ভোটার শনাক্তকরণ-

ভোটের দিন সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

লাইনে দাঁড়ানো: কেন্দ্রে প্রবেশের পর ভোটারদের নির্ধারিত লাইনে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়াতে হবে। প্রবেশের আগে বাইরের বুথ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংবলিত স্লিপ সংগ্রহ করা যাবে।

শনাক্তকরণ: প্রথম পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও পরিচয় যাচাই করবেন। পোলিং এজেন্টরা তাদের তালিকায় ভোটারকে চিহ্নিত করার পর দ্বিতীয় পোলিং অফিসার ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অমোচনীয় কালির চিহ্ন দেবেন।

৩. ব্যালট পেপার গ্রহণ ও প্রকারভেদ

ব্যালট পেপার: শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে ভোটারকে দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেয়া হবে-জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট পেপার ও গণভোটের জন্য গোলাপি ব্যালট পেপার।

যাচাই: ব্যালট পেপার হাতে পাওয়ার পর তাতে অফিশিয়াল সিল এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

৪. গোপন কক্ষে ভোট প্রদান ও ব্যালট ভাঁজ

ব্যালট পেপার নিয়ে ভোটারকে গোপন বুথে প্রবেশ করতে হবে।

সিল প্রদান: পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক বা গণভোটের নির্ধারিত ঘরে সর্তকতার সাথে সিল দিতে হবে।
সঠিক ভাঁজ: সিলের কালি যেন ব্যালটের অন্য কোনো অংশে না লাগে, সেজন্য প্রথমে মাঝ বরাবর লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ভাঁজ করে গোপন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

৫. ভোট সম্পন্ন ও কেন্দ্র ত্যাগ

ভোট প্রদান শেষে ভোটারকে মার্কিং সিলটি কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। এরপর দায়িত্বরত কর্মকর্তার সামনে রাখা নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপার দুটি ফেলতে হবে। ভোট দেওয়া শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।

 

পোস্টাল ব্যালট কীভাবে গণনা হবে?

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনাবলী জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

ইসি জানায়, পোস্টাল ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের নিচের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে-

 

গণনা শুরুর প্রস্তুতি ও প্রাথমিক পদক্ষেপ-

 

প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করে পোস্টাল ভোট গণনায় প্রিজাইডিং অফিসারের উপস্থিতি ফর্মে স্বাক্ষর করবেন।
গণনা কার্যক্রমের সময় আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন।
ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে চারটার পর রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ব্যালট ভর্তি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
উপস্থিত পরিদর্শক, সাংবাদিক ও পোলিং এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্সের বারকোড নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে।
প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনায় পোলিং অফিসাররা পোস্টাল ব্যালট ও ঘোষণাপত্রসংবলিত খাম খুলবেন।
ঘোষণাপত্র এবং সাধারণ ভোট ও গণভোটের ব্যালটসম্বলিত ছোট খামগুলো আলাদা করে রাখবেন।

ব্যালট পেপার ও ঘোষণাপত্র যাচাইকরণ-

 

প্রবাসী ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ ব্যবহার করা হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম না থাকলেও রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক মুদ্রিত থাকবে।
দেশে অবস্থানরত ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম-৭ (ক) ব্যবহৃত হবে, যেখানে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উভয়ই মুদ্রিত থাকবে।
ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর আছে কি না তা নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে।
ঘোষণাপত্র না থাকলে বা স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকলে সংশ্লিষ্ট পোস্টাল ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে ‘বাতিল’ সিল দেওয়া হবে।
বাতিলকৃত ব্যালটের ওপর ‘ঘোষণাপত্র নাই’ অথবা ‘ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর নাই’ উল্লেখ করে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করবেন।

ভোট গণনা ও ফলাফল লিপিবদ্ধকরণ-

 

প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী পোলিং অফিসাররা সাধারণ ভোট ও গণভোট আলাদাভাবে গণনা করবেন।
আসনভিত্তিক প্রার্থীদের প্রাপ্ত বৈধ ব্যালট আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।
সাধারণ ভোটের ফলাফল ফর্ম-১৬(ক)-তে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
গণভোটের ফলাফল (হ্যাঁ/না অনুযায়ী) ফর্ম-৪-এ লিপিবদ্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষে উপস্থিত পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর ফলাফল ফরমে নিতে হবে।

প্যাকেটজাতকরণ ও সংরক্ষণ
প্যাকেট ১: প্রার্থীদের পক্ষে প্রদত্ত সকল বৈধ ব্যালট।
প্যাকেট ২: অবৈধ বা বাতিলকৃত ব্যালট বা ফর্ম-৭।
প্যাকেট ৩: প্যাকেট ১ ও ২ একত্রে এই প্যাকেটে ভরে মুখ বন্ধ করতে হবে।
প্যাকেট ৯: পোস্টাল ব্যালট পেপারের রেজিস্টার (ফর্ম-১২)।
প্যাকেট ১৪: ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-১৬ ক)।
প্যাকেট ১৬: ফেরত খাম (ফর্ম-১০ ও ১০-খ), স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র (ফর্ম-৮) এবং ত্রুটিপূর্ণ বাতিল ঘোষণাপত্র ও সাদা খাম (ফর্ম-১০ ক)।
গণভোটের ক্ষেত্রে বৈধ ব্যালট প্যাকেট ১-এ, অবৈধ ব্যালট প্যাকেট ২-এ এবং ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-৪) প্যাকেট ৬-এ রাখতে হবে।
 

সবশেষে, সকল প্যাকেট একটি হেশিয়ান বা চটের ব্যাগে ভরে ভালোভাবে মুখ আটকে সিলগালা করতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই সিলগালাকৃত ব্যাগ এবং ফলাফল বিবরণী (ফর্ম-১৬ ক) সম্বলিত প্যাকেট ১৪ রিটার্নিং অফিসারের নিকট হস্তান্তর করবেন।

নির্বাচন কমিশনের মতে, সঠিকভাবে পোস্টাল ব্যালট গণনা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে।


নির্বাচন ঘিরে বিদেশি ৫৪০ সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক-

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদ সংগ্রহ করবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।


ইসির আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক আসছেন।

 

ইসির আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটান ও নাইজেরিয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিসের (আইসিএপিপি) স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান।

 

এছাড়া তুরস্ক থেকে ৬ জন সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম ইলেকশন কাউন্সিলের কর্মকর্তাসহ ১০ সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া থেকে ৫ জন করে প্রতিনিধি দল এবং ফিলিপাইন, জর্জিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের নির্বাচন কমিশনের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো থেকে থাকছেন প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক রয়েছেন ২২৩ জন। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফইলি) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক স্বপ্রণোদিত হয়ে থাকছেন।
 

নির্বাচন ও গণভোটের সংবাদ কভার করতে আসা ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিকের মধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে ৪৮ জন এবং আল জাজিরা থেকে ৭ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এছাড়া জাপানের সংবাদ সংস্থা এনএইচকে, বিবিসি নিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স, এবিসি অস্ট্রেলিয়া ও ডয়েচে ভেলের (ডিডব্লিউ) প্রতিনিধিসহ স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও ভারতের সাংবাদিকরা রয়েছেন।

ইসি জানায়, বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা যাতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।


যানবাহন চলাচল নিয়ে বিধিবিধান-

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে বুধবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সারা দেশে বন্ধ থাকবে। ভোট গ্রহণের দিন (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা নেই।

 

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন) চলবে। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) চলতে পারবে।

 

ইসি আরও জানিয়েছে, দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন চলতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।

সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা–কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে।

টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি ও বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে বলেও জানিয়েছে ইসি। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ছাড়া আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান প্রধান রাস্তার সংযোগ সড়ক বা উক্তরূপ সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

মেট্রোরেল চলবে-

ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (এমটিসিএল) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।


ভোটকেন্দ্র কোথায়, খুঁজে বের করবেন যেভাবে-

 

‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে নিজের ভোটকেন্দ্র কোথায়, তা খুঁজে বের করতে পারবেন।

ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তাতে বলা হয়, Smart Election Management BD অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। এ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান (জিও লোকেশন), ছবি, দূরত্ব ও ম্যাপ প্রভৃতি তথ্য দেখা যাবে।
এছাড়া এই অ্যাপ থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তথ্য, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামাসহ যাবতীয় তথ্য, নির্বাচনী ফলাফল এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট তথ্য জানা যাবে।

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও এই অ্যাপটি চালু করা হয়েছিল।


দেশের ৮ হাজার ৭৭০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: আইজিপি

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম।

 

আইজিপি বলেন, কেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স--এই ৩টি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য কাজ করছে। সারা দেশে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও আনসার কাজ করছে। ২৭ হাজার ৯৯৫ বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। ৯০ ভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করা হবে।

 

এ সময় তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৫ জন, আহত হয়েছেন ৬০৩।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন