ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রোকনপুর পাঠাগারে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে বই, পাঠক বা লাইব্রেরিয়ান-কারও উপস্থিতি নেই, বরং রয়েছে ব্যারেল ভর্তি কেমিক্যাল।
সময় সংবাদের ক্যামেরা দেখে লাইব্রেরিয়ানের রুম খোলা হয়। সেখানে এক কোণে কয়েকটি বই পাওয়া যায়, তবে সেগুলো সিটি করপোরেশনের দেয়া নয় বলে মুঠোফোনে দাবি করেন লাইব্রেরিয়ান ঝর্ণা আখতার। তিনি বলেন, এখানে কিছু ব্যক্তিগত বই রাখা আছে।
আরও পড়ুন: ভুয়া কাগজপত্র বানিয়ে অন্যের গাড়ি বিক্রি, সাংবাদিক-ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে দম্পতির প্রতারণা
উন্নত মানসিকতা ও বুদ্ধিদীপ্ততার চর্চার জন্য পাঠাগারের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এমন ভগ্নদশার কারণ জানতে দুই সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, গত ১০ অর্থবছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৮টি পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পাঠাগারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
তবে এই কোটি কোটি টাকায় আদৌ পাঠাগারের উন্নয়ন হয়েছে কিনা, নাকি অর্থ লোপাট হয়েছে-সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একের পর এক পাঠাগারে একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গৌর সুন্দর রায় লেনের মুফতি দীন মোহাম্মদ ইসলামী পাঠাগারে ভাঙা চেয়ার-টেবিল ও কয়েকটি আলমারিতে গুটিকয়েক বই পাওয়া যায়। অধিকাংশ আলমারিই খালি। ভেতরের কক্ষে দেখা মেলে সরকারি চালের বস্তা। কর্মচারীরা জানান, পাঠাগারটি এখন টিসিবির পণ্য বিতরণ ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
অন্যদিকে হাজারীবাগ পার্কের একটি পাঠাগার পুনর্নির্মাণাধীন থাকার কথা থাকলেও সেখানে কোনো পাঠাগারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, শুধু কিছু ভাঙা স্থাপনা দেখা যায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন অনেক এলাকায় বছরের পর বছর বরাদ্দ থাকলেও পাঠাগার নির্মাণই হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, সেখানে আগে কখনও পাঠাগার ছিল না, এখনও নেই।
তাহলে বরাদ্দের অর্থ কোথায় যায়; এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি সরাসরি বলতে পারবেন না অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তবে বরাদ্দ খুব একটা তিনি দেখেননি।
আরও পড়ুন: বিআরটিএ নথিতে মাইক্রোবাস, তবে রাজধানীর রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘মৃত্যুফাঁদ’ লেগুনা
আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, পাঠাগারের চেয়ে নাগরিকদের অন্য জরুরি বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, তাই সেখানে পাঠাগারের ব্যয় অনেক সময় অগ্রাধিকার পায়নি। সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান বলেন, রাস্তাঘাট, ড্রেন ও অন্যান্য অবকাঠামো কাজের চাপের কারণে লাইব্রেরির বিষয়টি ঠিকভাবে গুরুত্ব পায়নি।
অন্যদিকে আওয়ামী সরকার পতনের পর আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি পাঠাগার দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীরা সেখানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ পাঠাগার গড়ে তোলে, যা এখন পাঠকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সাধারণ জনগণের মতে, পাঠক না থাকার কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই দেশের পাঠাগারগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৬








Bengali (BD) ·
English (US) ·