ওয়াসার সংযোগ থাকার পরও অন্য বাড়ির গভীর নলকূপ থেকে খাবার পানি তুলে আনেন শ্যামপুরের বাসিন্দা সালমা। তার অভিযোগ, ৩০ বছর ধরে বাইরে থেকে পানি এনে খেতে হচ্ছে। কারণ ওয়াসার পানিতে আয়রন বেশি, পানির রংও ভালো নয়।
অথচ ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বলেছেন, সরবরাহকৃত পানি পরীক্ষা করা হয় এবং তা শতভাগ সুপেয়। পদত্যাগের কয়েক মাস আগেও এক অনুষ্ঠানে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, ঢাকা ওয়াসা এখন ভালো অবস্থায় আছে।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন কথা। ঢাকা ওয়াসা ভালো থাকলেও ভালো নেই ওয়াসার গ্রাহকরা। সে সময় নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে সড়কে বিক্ষোভ করেছেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, শ্যামপুর ও শনির আখড়ার বাসিন্দারা।
পানির সঞ্চালন লাইন ও মানোন্নয়নে একাধিক প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমেনি। অনেকেই বলছেন, প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করতে হলেও সেই পানি পান করার উপযোগী নয়। পানিতে আয়রন বেশি, রং খারাপ, অনেক সময় পানি বন্ধ থাকে। তাই অনেকেই বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করছেন, এমনকি মসজিদ থেকেও পানি নিয়ে আসতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বাড়ল ওয়াসার এটিএম বুথের পানির দাম, লিটারে কত?
এছাড়া ভুতুড়ে বিল নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। গ্রাহকদের দাবি, মিটার রিডাররা সরেজমিনে না এসে অফিসে বসেই বিল তৈরি করেন। আগে যেখানে বিল আসত ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা, এখন তা বেড়ে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায় পৌঁছেছে। কখনো কখনো পানিতে পোকাও পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
নগরবিদ অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, প্রকল্পের নামে লুটপাট ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, ঢাকার পানি দূষণের মূল কারণ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ওয়াসার অনেক প্রকল্পই উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারেনি। ওয়াসা আগাগোড়া একটা দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান। আমরা কোনো সংস্কার পাইনি তো ওয়াসাতে।
তবে ঢাকা ওয়াসা বলছে, পানি সংকট কমাতে এবং সরবরাহ বাড়াতে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ১৬টি ইউনিয়নে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫৭৫ কিলোমিটার পানির লাইন স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাবেন। এরই মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিজাইন ও বিডিং ডকুমেন্ট তৈরির কাজ চলছে।
এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দ ৫৯১ কোটি টাকা, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ঋণ ৩৪২৯ কোটি টাকা এবং ঢাকা ওয়াসা দেবে ২০ কোটি টাকা। ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৮








Bengali (BD) ·
English (US) ·