ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা, এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত ৪

১ সপ্তাহে আগে
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সুমন মিয়া নামে ফেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে অপহরণের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন দুর্বৃত্তদের ঘিরে ফেললে তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে পালানোর চেষ্টা করে। এতে চার পথচারী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গারপুল এলাকায় সুমন মিয়ার ফেক্সিলোডের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।


এ দিকে এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন শামীম ওরফে জুয়েল নামে অভিযুক্ত একজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শামীম ওরফে জুয়েল নামে ওই ব্যক্তি গত দুদিন আগে সুমন মিয়ার দোকান থেকে দুই হাজার টাকা ফেক্সিলোড করে টাকা দিতে ব্যর্থ হন। এতে দোকান মালিক সুমন তাকে আটক রেখে টাকা আদায় করে ছেড়ে দেন। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত সাড়ে ১১টায় শামীম ওরফে জুয়েলসহ ৪/৫ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে সুমনের ফেক্সিলোডের দোকানে আসেন। এরপর তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সুমনকে মোটরসাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন।


আরও পড়ুন: মেহেরপুরে বিএনপি কর্মীকে গুলি, লুটিয়ে পড়তেই বোমা নিক্ষেপ


তখন আনোয়ার হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। এ সময় অস্ত্রধারীরা তার বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে আতংক সৃষ্টি করে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে ফেলেন। তখন তারা পালানোর জন্য এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকেন। এ সময় চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রধারীদের ধাওয়া দিলে পিস্তলসহ কয়েকজন পালিয়ে যান।


তবে মোটরসাইকেলসহ শামীম ওরফে জুয়েলকে আটক করে গণধোলাই দেন স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি গুলির খোসা উদ্ধারসহ জুয়েলকে আটক করে।


আরও পড়ুন: স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যে নিজের মাথায় গুলি করে পুলিশ সদস্য, দাবি পরিবারের


এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, রাতের ঘটনায় চার পথচারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আমির হোসেন নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তার অবস্থা গুরুতর। অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঘেঁষে গুলি যাওয়ায় তারা আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, জনতার মারধরে আটক ব্যক্তি নিজের নাম একবার শামীম আরেকবার জুয়েল হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করেছেন। তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার কাছ থেকে অস্ত্রধারীদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।


এ ঘটনায় তদন্তসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি মাহবুব আলম।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন