ডিজেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না ৮০ শতাংশ জেলে, কমছে মাছের সরবরাহ

৬ দিন আগে
পটুয়াখালীতে তীব্র ডিজেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না অধিকাংশ জেলে। এতে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে মৎস্যবন্দর ও মোকামগুলোতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। জেলে থেকে শুরু করে পুরো মৎস্য খাতেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এরইমধ্যে সামনে আসছে টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুই চাপেই দিশেহারা উপকূলের মৎস্যজীবীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নোঙর করে রাখা ট্রলার, শুনশান ঘাট, ফাঁকা আড়ৎ। ডিজেল সংকটে সমুদ্রে যেতে পারছেন না জেলেরা। তাই ঘাটেই পড়ে আছে শত শত মাছ ধরার ট্রলার। এমন দৃশ্য দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পটুয়াখালীর মহিপুরে।


জেলে ও ট্রলার মালিকরা জানান, একটি বড় ট্রলার ৭ থেকে ১০ দিনের জন্য সাগরে গেলে প্রয়োজন হয় প্রায় ৫ হাজার লিটার ডিজেল, অর্থাৎ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ব্যারেল। কিন্তু সেই জ্বালানিই এখন সংকটে। ফলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জেলেই সমুদ্রে যেতে পারছেন না।


জেলেরা সমুদ্রে যেতে না পারায় স্থবির হয়ে পড়েছে মৎস্য বন্দর ও আড়ৎগুলো। অবতরণ কেন্দ্রে নেই আগের সেই হাঁকডাক। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারেও দেখা দিয়েছে মাছের সংকট। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে পুরো মৎস্য খাতে। জেলে, স্থানীয় ব্যবসায়ী, আড়তদার, পাইকার, শ্রমিক সবাই পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।


আরও পড়ুন: পিরোজপুরে ধরা পড়ল ২২ লাখ টাকার লাক্ষা মাছ


জেলেরা বলছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অনেকেই সমুদ্রে যেতে পারছেন না। মাঝেমধ্যে ডিজেল মিললেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই অপ্রতুল। তা দিয়ে টানা মাছ শিকার চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে বেকার সময় কাটছে তাদের।


এরই মধ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে মাছ শিকারে টানা ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। একের পর এক এই ধাক্কায় আরও সংকটে পড়ছেন বলে জানান জেলেরা।


কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে দুই দফা জেলদের তেল সরবরাহ করা হয়েছে।  সরবরাহ আরও বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে।


পটুয়াখালীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এর বাইরেও রয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ অনিবন্ধিত জেলে। ফলে এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর ওপর।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন