ট্রাকচাপায় নিহত ছেলে-পুত্রবধূ-নাতনী: মায়ের ধারণা তারা চিকিৎসা শেষে ফিরবেন

৩ সপ্তাহ আগে
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরা হলো না শরিফুল ইসলামের। পাথরবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শরিফুল, তার স্ত্রী ও পাঁচ মাস বয়সি শিশুসন্তানের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার মির্জার কোর্ট মডেল মসজিদ এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার মনসাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। তিনি পাটগ্রামে ‘পদক্ষেপ’ নামের একটি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্র ও প্রতিবেশীরা জানান, কর্মস্থল পাটগ্রাম থেকে ঈদের ছুটিতে মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে হিলির উদ্দেশে রওনা হন শরিফুল। পথে মির্জার কোর্ট এলাকায় পৌঁছালে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শরিফুলের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ও তার পাঁচ মাস বয়সি শিশুসন্তানকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তাদের বড় ছেলে বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

 

শরিফুলের গ্রামের বাড়ি মনসাপুরে এখন মাতম চলছে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র থাকায় মা আছিয়া বেগম বাড়িতে একাই থাকেন। একমাত্র ছেলে ও নাতি-নাতনিরা আসবে বলে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে শরিফুল পাটগ্রামে চাকরি করে। আমি বাড়িতে একাই থাকি। ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিরা আসবে বলে সকালে রওনা হয়েছে। হয়তো দুপুরের মধ্যেই পৌঁছাবে। লোকমুখে শুনছি ছেলে আমার সড়ক দুর্ঘটনা করেছে। চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরবে।’

 

অবুঝ এই মায়ের ধারণা, ছেলে সামান্য আঘাত পেয়েছে এবং কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসবে। বাড়িতে ভিড় করা মানুষদের দেখে তিনি বারবার এ কথাই বলছিলেন।

 

প্রতিবেশী আব্দুর রহমান ও রোকেয়া বেগম জানান, যে বাড়িতে ঈদের আনন্দ থাকার কথা, সেখানে এখন শোকের ছায়া। এমন দুঃসংবাদে পুরো এলাকার মানুষ কাঁদছে। শরিফুলের মাকে সান্ত্বনা দেয়ার কোনো ভাষা তাদের জানা নেই।

 

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘একই পরিবারের তিনজনের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক। আমি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন