টাঙ্গাইলে নির্দেশনা অমান্য করে স্কুল খোলা, শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু

২ সপ্তাহ আগে
টাঙ্গাইলে একটি স্কুলে মুইদ নামে এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজের ওই শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই স্কুলটি খোলা রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নিহত মুইদ ভূঞাপুরের গোলাবাড়ি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। সে ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।


এ দিকে এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জানাজানির পর স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পলাতক রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।


স্থানীয়রা জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই স্কুলটি খোলা রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়া শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজের ভবনের নিচ থেকে মুইদকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের এক আয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আরও পড়ুন: চেক-আউটের কথা ছিল আজ, হোটেল কক্ষে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু!


স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাস খোলা রাখার পর এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ইতিপূর্বেও একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিরুদ্ধে। পরে সেটি ধামাচাপা দেয়া হয়।’


পথচারী রাসেল মিয়া বলেন, ‘মুইদের মৃত্যুর দায় প্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। কারণ একজন অভিভাবক যখন আবাসিকে রেখে যায়, তখন ওই শিক্ষার্থীর দায়ভার ওই প্রতিষ্ঠানের। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।’ 


মুইদের মা লায়লা বেগম বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আমাকে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজিব স্যার ভালো না। তার কারণেই আমি মারা যাবো। সজিব স্যারও আমাকে ফোন করে মুইদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতো। আমি দোষী ব্যক্তির বিচার দাবি করছি।’


আরও পড়ুন: বিয়ের ৭ মাস পর গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু


শহীদ একাডেমিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ বলেন, ‘মুইদের সঙ্গে তার বাবা মার ঝগড়া হয়েছে। সে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল ও আবাসিক বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেন না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।’


টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মর্গে গিয়ে মরদেহও দেখেছি। ছেলেটি মুখ থেতলে গিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন