‘জ্বালানির চাপ জনজীবনে’, ‘শিশু হাসপাতালে অভিভাবকদের চাপাকান্না’

২ দিন আগে
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।

 

জ্বালানির চাপ জনজীবনে - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ায় নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে জনজীবনে। দাম বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি ও পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে। জ্বালানির দাম বাড়লে প্রথমেই পরিবহন খরচ বেড়ে যায়।

 

 


এরপর শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় বাড়ে। পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। ফলে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়ে। মোটাদাগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এ ছাড়া মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তাদের আয় স্থির থাকলেও ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকট কৃষি, শিল্প, যানবাহনসহ বিদ্যুৎ খাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।


বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, জনজীবনে বড় ধাক্কা - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটসহ নানা ইস্যুতে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। সাধারণ মানুষ কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় শনিবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এতে অর্থনীতির সব খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরাসরি প্রভাব পড়বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিনটি খাত-শিল্প, কৃষি ও সেবায়।


 

 

 

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির একদিনের মধ্যেই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাস, ট্রাক ও লঞ্চসহ গণপরিবহণে ভাড়া বাড়াতে চাপের মুখে সরকার সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। রোববার রাতে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। তবে ভাড়া কত বাড়ানে হবে-এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।


বিআরটিসিতে ঢাবির শিক্ষার্থীদের বহন/ ফিটনেস নেই একটি বাসেরও - দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) যেতে শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে বের হয়ে প্রায়ই জানতে পারেন, নষ্ট হওয়ায় আজ বাস আসবে না। তখন ক্লাস ধরতে তড়িঘড়ি করে অন্য যানবাহনে ছুটতে হয়। আবার অনেক সময় যাত্রাপথে বিকল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। ফলে মাঝপথে নেমে শিক্ষার্থীদের বিকল্প পন্থায় যেতে হয়।

 

 


 

বাসগুলোর ভেতরের অবস্থাও করুণ। ফ্যান নেই, জানালার কাচ ভাঙা, বৃষ্টির সময় পানি ঢুকে সিট ভিজে যায়। নড়বড়ে সিটে নেই কাভার। যেখানে ঠিকভাবে বসাও যায় না।

 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত হতে পারে মোবাইল নেটওয়ার্ক - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি দেশজুড়ে লোডশেডিংও তীব্র হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোনো কোনো স্থানে দিনে ৮-১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অনেক এলাকায় জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না।


 

 


জনজীবনের পাশাপাশি এমন পরিস্থিতিতে সংকটে পড়ার কথা জানিয়েছেন দেশের মোবাইল অপারেটররা। পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ ও ‘ক্রমবর্ধমান’ সংকট বলে অভিহিত করেছে দেশের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগসেবা বজায় রাখা সম্ভব হবে না বলে মনে করছে সংগঠনটি।

 

পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে খরচ বাড়ছে - দৈনিক সমকালের প্রধান খবর এটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহ দুয়েক আগেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে না। প্রয়োজন হলে দামের সমন্বয় করে আগামী মে মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির চিন্তা করা হবে। কিন্তু গত শনিবার রাতে তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। গতকাল রোববার সকাল থেকেই পরিবহন খাতে তার প্রভাব দেখা যায়। সড়কে যান চলাচল কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে দূরপাল্লা এবং নগর পরিবহনের বাসের ভাড়া বাড়তে যাচ্ছে। আজ সোমবার এ-সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।


 

 

 

তবে তেলের নতুন দাম ঘোষণার পর রাত থেকেই পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিকরা। পাশাপাশি সরকারি সিদ্ধান্তের আগেই লঞ্চ, খেয়া ও নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাসের ভাড়া বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে গতকাল রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাস মালিকরা বৈঠক করেন। মালিকরা কিলোমিটারে প্রায় দেড় টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করলেও বিআরটিএ তাতে সায় দেয়নি। ফলে রাত সোয়া ১০টার দিকে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সভা শেষ হয়।

 

শিশু হাসপাতালে অভিভাবকদের চাপাকান্না - দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদ এটি। 


প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ৬ মাস বয়স। নাকে পাইপ লাগানো। এটা দিয়েই খাওয়ানো হয় দুধ। বাবা-মা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছেন। বারবার নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছেন, কান্না করলে খাওয়াবো কীভাবে? ছেলের এই অবস্থা দেখে নিজেদের চোখের পানি লুকাচ্ছিলেন সোহেল ভূঁইয়া ও রুমী আক্তার দম্পতি। তাদের প্রথম সন্তান হৃদয়। গাজীপুরে ট্যাক্সি চালিয়ে সংসার চালান সোহেল। ছেলেকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসা করাচ্ছেন।


 

 


৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। ধারদেনা করে খরচ করেছেন অন্তত ৫ লাখ টাকা। সরজমিন রাজধানীর শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ওয়ার্ডে দেখা গেছে সন্তান নিয়ে অনেক মা-বাবার এমন চাপাকান্না। শনিবার দুপুর ১১টা থেকে রোববার দুপুর ১১টা পর্যন্ত ১২ জন হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছে ১০ জন। আগে থেকে ভর্তি ছিল ৬৭ জন। সবমিলিয়ে বর্তমানে ৬৯ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। ভুক্তভোগী সোহেল ভূঁইয়া বলেন, হঠাৎ ছেলের জ্বর, কাশি শুরু হয়। ২ দিন পর গলা বন্ধ হয়ে যায়। কান্নার শব্দও বের হচ্ছিল না। পরে ডাক্তার বলেন, নিউমোনিয়া হয়েছে। এরপর গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে ডাক্তার বলেন, অবস্থার উন্নতি না হলে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে।

 

কিটসংকটে হাম পরীক্ষা কম হচ্ছে, শনাক্তও কম - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম শনাক্তের পর্যাপ্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। কিটসংকটের কারণে প্রতিদিন স্বল্পসংখ্যক পরীক্ষা হচ্ছে। এতে দেশের হাম পরিস্থিতির সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।


 

 


শুধু রাজধানীর মহাখালীতে সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে হামের পরীক্ষা হয়। দেশে আর কোথাও এমন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মোমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দৈনিক তিন-চার শ নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা আমাদের আছে। আমরা এখন প্রতিদিন গড়ে ১২০ বা তার কিছু বেশি নমুনা পরীক্ষা করছি। কিটস্বল্পতার কারণে বেশি পরীক্ষা করা যাচ্ছে না।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন