জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের আদেশ প্রশ্নবিদ্ধ, চূড়ান্ত রায় কবে

১ সপ্তাহে আগে
এবার জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ প্রশ্নবিদ্ধ হলো সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার (১ এপ্রিল) আদালতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতেই হোয়াইট হাউসের তীব্র সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা। রক্ষণশীল বিচারকরাও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় আসবে জুনে।

এর আগে আসামি হয়ে বহুবার আদালতে হাজির হয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এবার গড়লেন আরেক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের এভাবে আদালতে উপস্থিত থাকার ঘটনা এটিই প্রথম।

 

বুধবার জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন ট্রাম্প। এসময় বিচারকরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ক ট্রাম্পের আদেশের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেন।

 

সুপ্রিম কোর্টে ৯০ মিনিট ধরে চলে আপিলের শুনানি। প্রায় পুরোটা সময় উপস্থিত থেকে আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন ট্রাম্প। এসময় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল বিষয়ে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর থেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এখন এক নতুন পৃথিবীতে বাস করছে’­– ট্রাম্প প্রশাসনের এমন যুক্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, ‘সংবিধান আগের মতোই রয়েছে’। 

 

আরও পড়ুন: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব চালু হয় দাসদের সন্তানের জন্য, ধনীদের নয়: ট্রাম্প

 

রক্ষণশীল দুই বিচারপতিও উদারপন্থি বিচারকদের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে ট্রাম্পের মূল যুক্তিগুলোকে তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

 

এদিকে, মৌখিক শুনানিতে অংশ নেয়ার পর আবারও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দিয়ে বোকার মতো একটি কাজ করে যাচ্ছে! যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প ভিত্তিহীন দাবিরই পুনরাবৃত্তি করছেন, কেননা বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিধান চালু আছে। 

 

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেয়া সবাই নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে রয়েছে, জন্ম নেয়া কোনো শিশুর বাবা-মা কেউই যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্য না হন তাহলে সেইসব শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে না।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন