মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাইলট কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ৮৬টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে এই কার্ড তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ওয়ার্ডে ৩৭ হাজার মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই কার্ড হবে সর্বজনীন। তবে এটি প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দুই কোটি পরিবারের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সব টাকা যার যার অ্যাকাউন্টে চলে গেছে। এখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত বা দলীয়করণেরও কোনো সুযোগ নেই। পর্যায়ক্রমে দেশের মোট ৪ কোটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।’
সামাজিক সুরক্ষা খাতকে দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কৃষিঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা মওকুফ করেছে। কৃষক কার্ডের কাজ চলছে, সেটিও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।’
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইফতার মাহফিলে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ
নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদের ইমাম, খাদেম, মুয়াজ্জিন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের যাজকদের সম্মানী প্রদান করা হবে। এ বিষয়ে পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ঘোষণা করবেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারীরা রাষ্ট্র কর্তৃক সম্মানিত হতে যাচ্ছেন। আর্থিকভাবে সহায়তার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আমন্ত্রণ পাবেন।’
কার্ড বিতরণে দরিদ্র, হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানদের বাছাই করা হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী প্রধানরা আড়াই হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যায়ক্রমে আরও দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী প্রধানকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. এ. খালেক, জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশসহ সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।
]]>
১ দিন আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·