শনিবার (১৮ এপ্রিল) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হয় ‘রাস্তা জুড়ে রোদ হোক’ শিরোনামের যুব বিদ্রোহ উৎসব-২০২৬। বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করে।
উৎসবের কথামালা পর্বে বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যুব বিদ্রোহের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ভুলতে বসেছে। পুঁজিবাদের পেছনে ছুটতে গিয়ে শিকড় বিচ্ছিন্ন হওয়ার এই দায় বড়দেরই নিতে হবে।
সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষক শীলা মোমেন বলেন, মানুষ অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং সাফল্য থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। এসব ইতিহাস যদি শিশুদের ছোটবেলা থেকে শেখানো না হয়, তবে এই জাতি কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।'
কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার বলেন, 'আমরা যদি প্রকৃত ইতিহাসের দিকে ফিরে যেতে না পারি, তবে আমরাই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনব।' অন্যদিকে, কবি ও সাহিত্যিক অভীক ওসমান দেশের সকল আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: সার্ক প্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা স্মরণ আন্টালিয়া ফোরামে
বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা সুবর্ণা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল সোহেল।
সঙ্গীত ভবনের দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর সাংস্কৃতিক পর্বে দলীয় সংগীতে অংশ নেয় ‘সুরপঞ্চম’ ও ‘ধ্রুপদ’। নৃত্যেশ্বর, নৃত্য নিকেতন ও নৃত্যভূমির শিল্পীরা পরিবেশন করেন দলীয় নৃত্য। শিশুদের প্রতিষ্ঠান ‘ফুলকী’র খুদে শিল্পীদের পরিবেশিত ব্রতচারী নৃত্য দর্শকদের নজর কাড়ে।
আবৃত্তির ঝংকারে মাস্টারদাদের বীরত্ব তুলে ধরেন মিশফাক রাসেল, সেলিম রেজা সাগর, রুনা চৌধুরী, পার্থ প্রতীম মহাজনসহ অন্যান্যরা। বোধন আবৃত্তি পরিষদের বড় ও ছোটদের বিভাগ পৃথকভাবে বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, পূর্ণা দাশ, হাসিবুল ইসলাম শাকিল ও ঋত্বিকা নন্দী।
উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন এবং টানা চার দিন ব্রিটিশ শাসন থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত রেখেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক দিবসটি স্মরণে প্রতি বছর এই উৎসব আয়োজন করা হয়।

২ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·