পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধ্যিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদারের সঙ্গে একই এলাকার হাসান মুন্সির বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। এরই জেরে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলদারের সমর্থক ও চাচাতো ভাই আলমগীর হাওলাদারের বসতঘরে ঢুকে হামলা চালায় প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সির লোকজন।
এ সময় আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। বাধা দেয়ায় নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও করে হামলাকারীরা। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আরও পড়ুন: আধিপত্য নিয়ে বিরোধ: মাদারীপুরে ঘরে ঢুকে একজনকে কুপিয়ে হত্যা, বসতঘর লুটপাট
বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয় আলমগীর হাওলাদারের মরদেহ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাসান মুন্সির গ্রুপ জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান জানান, বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে, সবচেষ্টা করেও ব্যর্থ হতে হয়। এলাকাবাসী একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও ওপর তেড়ে আসেন। তারপরও দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আরও পড়ুন: রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে হত্যার হুমকি, প্রতিবাদ করায় শ্বশুরকে হত্যা
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রে জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ছাড়া আলমগীর হাওলাদার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতেও কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

২ সপ্তাহ আগে
৩





Bengali (BD) ·
English (US) ·