গাইবান্ধায় প্রি-পেইড মিটার নিয়ে ক্ষোভ, ‘ভূতুড়ে বিলের’ অভিযোগ গ্রাহকদের

১৭ ঘন্টা আগে
গাইবান্ধায় গ্রাহকদের মতামত ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করেই ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার বসানোর কাজ চলছে। তবে নতুন মিটার বসানোর পর মাসিক বিদ্যুৎ খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে এবং আগের বিল নিয়মিত পরিশোধ করলেও বকেয়ার অজুহাতে ‘ভূতুড়ে বিল’ দেয়া হচ্ছে; এমন অভিযোগ তুলেছেন অনেক গ্রাহক। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, নতুন সিস্টেম হওয়ায় কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে।

সরজমিনে জানা গেছে, গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো পোস্টপেইড ডিজিটাল মিটার বদলে প্রি-পেইড মিটার বসানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এতে গ্রাহক আগে টাকা পরিশোধ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন। ফলে অতিরিক্ত বিল বা বকেয়ার ঝুঁকি থাকবে না এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় হবে। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহক বলছেন, বাস্তবে তারা ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

 

গ্রাহকদের অভিযোগ, পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তনের পর প্রি-পেইড মিটার বসানোর পর থেকেই মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগে যেখানে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিল আসতো, এখন সেখানে প্রায় দ্বিগুণ টাকা খরচ হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও নতুন মিটার নেওয়ার পর আগের মিটারের নামে মনগড়া বকেয়া বিল দেয়া হচ্ছে।

 

গাইবান্ধা পৌর শহরের মালিপাড়ার বাসিন্দা সিফতান আহম্মেদ বলেন, প্রি-পেইড মিটার লাগানোর পর থেকে প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে। নিয়মিত বিল দেয়ার পরও বিদ্যুৎ অফিস থেকে আগের পোস্টপেইড মিটারে জমা ইউনিটের কথা বলে বড় অঙ্কের বিল দেয়া হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: নসরুল হামিদের ‘লুটপাটের সিন্ডিকেটে’ বিদ্যুৎখাতের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

 

শাপলাপাড়ার বাসিন্দা মলি বেগম জানান, আগে মাসে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিদ্যুৎ খরচ চলত। এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা রিচার্জ করেও মাস চলছে না। সুবিধার বদলে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

 

অতিরিক্ত বিল ও প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে জেলা জুড়ে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন করছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, মতামত না নিয়েই জোর করে এই মিটার বসানো হচ্ছে।

 

গাইবান্ধা প্রি-পেইড মিটার প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে একটি বিশেষ মহল সুবিধা নেয়ার জন্য জোরপূর্বক এই মিটার চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটি বন্ধের দাবিতে দ্রুত বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। নেসকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, গাইবান্ধা নেসকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান বলেন, নতুন সিস্টেম হওয়ায় অনেক গ্রাহকরা কার্যপ্রণালি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন না। প্রি-পেইড মিটারে অতিরিক্ত বিল আসার সুযোগ নেই। এটি স্বচ্ছ ও আধুনিক ব্যবস্থা। গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।

 

গাইবান্ধা জেলা সদরের নেসকো-১ ও নেসকো-২; এই দুটি অফিসের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহক ৮২ হাজার ৭১০ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৪৮৯ জনকে প্রি-পেইড মিটার দেয়া হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন