গণপরিষদের ভূমিকা ও কার্যপ্রণালী
গণপরিষদ মূলত নতুন সংবিধান বা সাংবিধানিক সংস্কার প্রণয়নের জন্য গঠিত একটি বিশেষ আইনসভা। গণভোটে অনুমোদন পাওয়ার ফলে এই পরিষদ এখন জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ শুরু করবে। সাধারণত গণপরিষদ বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি গঠন করে, যেমন: মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্র কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন পদ্ধতি ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটি। এসব কমিটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ পরিষদের সামনে উপস্থাপন করবে। পরে ধারাবাহিক আলোচনা, সংশোধনী এবং ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত খসড়া গৃহীত হবে। গত ৩০ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং জানিয়েছিল, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ শেষ করবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় সংসদের ভূমিকা ও কার্যক্রম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস, সরকার গঠন ও নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাবে। গণপরিষদ থাকলেও সংসদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও নীতিগত কাজ বন্ধ হয় না। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা সংসদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব দায়িত্ব সংসদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সংসদ অধিবেশন সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিল উত্থাপন, কমিটি কার্যক্রম এবং বিরোধী দলের সমালোচনা, সবই চলবে। তবে গণপরিষদের কাজের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে সংসদ অনেক ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী আইন বা সীমিত মেয়াদের নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে। যদি নতুন সংবিধান বর্তমান সংসদের কাঠামো পরিবর্তন করে, তবে সংসদের মেয়াদ, ক্ষমতা বা নির্বাচনী পদ্ধতিও পুনর্নির্ধারিত হতে পারে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের পর সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় মানে প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। প্রথম ধাপে আইনি গেজেট প্রকাশ, রূপান্তরকালীন সময়সূচি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হবে। এরপর গণপরিষদ খসড়া সংবিধান বা সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করবে, আর সরকার বাস্তব প্রশাসন চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক অংশীদার, উন্নয়ন সংস্থা ও কূটনৈতিক মহল এই প্রক্রিয়ার স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণ করবে, কারণ রাজনৈতিক রূপান্তর অর্থনীতি ও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে যাতে অস্থিরতা না তৈরি হয়। চূড়ান্ত সংবিধান কার্যকর হলে সে অনুযায়ী আইন প্রয়োগ ও রাষ্ট্র কাঠামোর পরিচালিত হবে। ফলে এই সময়টি দেশের জন্য এক ধরনের “সংবিধানিক রূপান্তর পর্ব” হিসেবে বিবেচিত হবে।
গত বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ আসন বাদে এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন। গণভোটের ফলে দেখা গেছে, ভোট দিয়েছেন সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন (৬১.০৩%)। এর মধ্যে নানা কারণে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট। বৈধ ৭ কোটি ২৭ লাখ ২ হাজার ৩৮৬ জনের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন 8 কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন (৬৮.৫৯%)। বাকি ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন (৩১.৪১%) ‘না’ ভোট দিয়েছেন। জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নেওয়ার জন্য এই গণভোটের আয়োজন করা হয়।
]]>

১ মাস আগে
৫







Bengali (BD) ·
English (US) ·