বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে মহিপুর মৎস্য বন্দরে মাছটি আনার পরপরই স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল।
জেলেরা জানান, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত মাছ ধরার সময় হঠাৎ করেই অদ্ভুত গড়নের এই মাছটি তাদের জালে ধরা পড়ে। সচরাচর এ ধরনের মাছ ধরা না পড়ায় সেটিকে তীরে নিয়ে আসা হয়। মাছটির গায়ের রং ধূসর থেকে বাদামি ও দেহ ডিম্বাকৃতি এবং পাশ থেকে চাপা— যা একে অন্য মাছ থেকে সহজেই আলাদা করে।
সাধারণত সার্জনফিশের দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং এরা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরসহ বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণ জলবায়ুর সমুদ্রে এদের বিচরণ রয়েছে। বাংলাদেশে খাবারের মাছ হিসেবে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এদের চাহিদা রয়েছে মূলত অ্যাকোয়ারিয়ামের শো-পিস হিসেবে। বিশেষ করে ‘ব্লু ট্যাং’ প্রজাতির একেকটি মাছের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘এমন মাছ আমরা আগে কখনও দেখিনি। দেখতে একদম ভিন্নধর্মী ও আকর্ষণীয়, তাই খবর পেয়ে দেখতে এলাম।’
আরও পড়ুন: ৯০ বছর ধরে নিখোঁজ— বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল বিলুপ্ত, অবশেষে মিলল সেই ট্রি ক্যাঙ্গারু
ওয়ার্ল্ডফিশের সাবেক গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, ব্রাউন সার্জনফিশ অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। এদের লেজের গোড়ায় থাকে ছোট কিন্তু ধারালো কাঁটা, যা আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণেই মাছটির নাম ‘সার্জনফিশ’।
তিনি আরও জানান, এরা মূলত প্রবালপ্রাচীর এলাকায় বসবাস করে এবং শৈবাল খেয়ে সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘আমাদের উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের মাছ খুব বেশি দেখা যায় না, তবে বঙ্গোপসাগরের উষ্ণ পানিতে এদের উপস্থিতি রয়েছে। পরিবেশগত দিক থেকে মাছটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে লেজের ধারালো কাঁটার কারণে জেলেদের এটি ধরার সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিরল এই মাছের উপস্থিতি স্থানীয়দের মাঝে যেমন আগ্রহ তৈরি করেছে, তেমনি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকেও এটি নতুন করে ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।’

১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·