মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে র্যাব-৩ ও র্যাব-১৪-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার মুগদা থানার উত্তর মুগদাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই অভিযান থেকে মূল অপহরণকারী মো. মাসুদ (২৮) ও তার সহযোগী মো. তানভীর (২৭) এবং মো. সোহাগ (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুটি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (১৩)। সে স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলস স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় দেলোয়ার। পরে ১৩ মার্চ রাতে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তার বাবা মো. জুলহাস মিয়াকে ফোন দিয়ে অপহরণের কথা জানানো হয়। প্রথমে ৩ হাজার টাকা, পরে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভয়ে পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা পাঠায়।
আরও পড়ুন: বাড়ির পাশে গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ শিশুর
এ ঘটনায় ১৬ মার্চ কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে মুগদার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, অভিযানে ধরা পড়া তিনজনই অপহরণ চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে কমলাপুর এলাকা থেকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিশুকে লক্ষ্য করে অপহরণ করে পরিবারের কাছে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করত। তারা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেয়ার ক্ষেত্রেও কৌশল অবলম্বন করত, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।
আরও পড়ুন: ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ কলেজছাত্রের মরদেহ, শরীরে আঘাতের চিহ্ন
র্যাব জানায়, গত এক থেকে দেড় মাসে এই চক্রটি ১০ থেকে ১২টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেছে। এর আগে ময়মনসিংহের একটি শিশুকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকেও ৬ হাজার টাকা নেয় তারা।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·