এশিয়ান কাপে রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন, র্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৭তম। সেই দলটার বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়াই করলো সমানতালে, হারলো মাত্র ২-০ গোলের ব্যবধানে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর দল উত্তর কোরিয়া। তাদের বিপক্ষেও বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে ঋতু-মনিকারা, হারের ব্যবধানটা ছিল ৫-০। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে উজবেকিস্তান, তাদের র্যাঙ্কিং ৪৯তম। এ ম্যাচে জিতলেই আরও একটি ইতিহাস হতো, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বিশ্বকাপে নাম লেখানোর বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই ছাড়তে হলো মাঠ, বাংলাদেশ হারলো ৪-০ গোলের ব্যবধানে।
শক্তিমত্তা, শারীরিক গঠন, র্যাঙ্কিং— সবকিছুতেই এই তিন দলের চেয়ে ঢের পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। নেই পর্যাপ্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা, ভালো প্রস্তুতিও নিতে পারেনি, ছিল আধুনিক সুবিধার অভাব, প্রযুক্তির ঘাটতি তো ছিলই, তার মধ্যে আবার বড় দলের বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলারও অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশের মেয়েদের। তবুও অস্ট্রেলিয়ার সবুজ গালিচায় দ্যুতি ছড়িয়েছেন ঋতুপর্ণা-আফঈদা-মিলি-মনিকারা।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধের শুরুর দিকে এক গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা, কোহাতি কিসকু সুযোগ নষ্ট করেন। আক্রমণভাগে তহুরা খাতুনও ছিলেন না কার্যকরী। তবে সব মিলিয়ে সাহসী ফুটবল খেলা মেয়েদের কখনও প্রশংসায় ভাসালেন, কখনও সমালোচনাও করলেন বাটলার।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয়ার্ধে খেই হারিয়ে উজবেকিস্তানের কাছে বড় হার বাংলাদেশের
‘মাঝে মাঝে আমরা মনে হয়েছে যে, স্কোরলাইনে আসলে খেলার প্রকৃত প্রতিফলন ছিল না। আমার মনে হয়েছে, ম্যাচে লম্বা সময় আমরা ভালো ফুটবল খেলেছি। কিন্তু আমরা এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলছি যারা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে ৬০, ৭০ ধাপ (আসলে ৬৩ ধাপ) উপরে এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী। আমরা অনেক সময় বল দখলে আধিপত্য বিস্তার করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারিনি। আর যদি আপনি গোল করতে না পারেন, তবে মূলত সেই সব ভালো কাজ বৃথা যায়। তাই কোনো অজুহাত নেই। যা হওয়ার তা হয়েছে।’
বাটলার বলেন, ‘আমি মনে করি গোল খেলা বদলে দেয়। তবে, আমি এখানে বসে এটা-ওটা নিয়ে কান্নাকাটি করতে চাই না। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের দল যাদের গড় বয়স ১৯, সাড়ে ১৯ বছর। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, যেমন পেছনে ফিরে দেখা এবং পরে উপলব্ধি করা। মেয়েদের আরও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা প্রয়োজন এবং আরও ক্যাম্প করা ও উচ্চতর পর্যায়ে খেলা প্রয়োজন। যেমন আমরা আজারবাইজানের বিপক্ষে খেলেছি এবং সত্যিই খুব কঠিন, উঁচু র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলেছি। আর আমাদের এমন দলের বিপক্ষে জেতার কোনো সুযোগ নেই।’
তবে নানা কারণে দলের ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছেন না বাটলা। কেননা, গত ডিসেম্বরে আজারবাইজানের বিপক্ষে সবশেষ প্রীতি ম্যাচের পর কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি মেয়েরা। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে বিক্ষিপ্তভাবে চলেছে ক্যাম্প। থাইল্যান্ডে নিবিড় প্রস্তুতি ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। তাই উজবেকিস্তান ম্যাচের পর পুরোনো ক্ষোভ ঝাড়লেন বাটলার।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে ফাইনালে ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখালেন রেফারি
‘আমরা মাঝে মাঝে সত্যিই ভালো ফুটবল খেলি, কিন্তু পরিস্থিতি যেমন… তারা টিভি ক্যামেরা নিয়ে আসে, তারা ভিডিও সরঞ্জাম নিয়ে আসে। আমাদের কাছে তা নেই, আমাদের কাছে সেই বিলাসিতা নেই। তাই কখনও কখনও মনে হয় যেন একজন বক্সার এক হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় লড়াই করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফলে আমি হতাশ, তবে মেয়েদের জন্য আমার প্রশংসা ছাড়া আর কিছু নেই। তারা অনেক দূর এগিয়েছে।’
‘যখন আপনি এএফসির স্তরে, এশিয়ান কাপ স্তরে খেলছেন, তখন আপনি আরও ভালো দলের মুখোমুখি হচ্ছেন, যারা শারীরিকভাবে এবং কাঠামোগতভাবে আমাদের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত। আমি মনে করি, এএফসি সত্যিই একটি ভালো ইভেন্ট আয়োজন করেছে। মাঠগুলো চমৎকার ছিল। আর আমাদের একটি মাঠও নেই। বাংলাদেশে আমাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ মাঠ নেই, এগুলো আমাদের সমস্যা।’
ছুটি নিয়ে ইংল্যান্ডে ফিরে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাববেন, এমন কথাও বলেছেন বাটলার। ‘এই মেয়েদের জন্য আমার প্রশংসা ছাড়া আর কিছু নেই। তাদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে, তারা আমাকে শ্রদ্ধা করে কিনা তা ভিন্ন কথা, তবে মেয়েদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা আছে এবং আমি খুব গর্বিত। এখন ফিরে গিয়ে একটু ভাবব, আমি সামনে কী করতে চাই। ইংল্যান্ডে ফিরে যাব এবং সেখান থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
]]>
২ দিন আগে
১







Bengali (BD) ·
English (US) ·