রসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে যাওয়ার আগে মিষ্টি জাতীয় কিছু খেয়ে বের হতেন। সহীহ বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী, "আল্লাহর রাসূল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন কয়েকটি খেজুর না খেয়ে (নামাজের জন্য) বের হতেন না এবং তিনি তা বেজোড় সংখ্যায় খেতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৯৫৩)।
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঈদের নামাজের আগে মিষ্টিমুখ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। যেহেতু আরবে তখন খেজুর সহজলভ্য ছিল, তাই নবীজি (সা.) খেজুর দিয়ে এই সুন্নাতটি পালন করতেন।
সেমাই খাওয়া নির্দিষ্টভাবে সুন্নাত নয়, বরং এটি একটি বৈধ বা মুবাহ খাবার। রাসূল (সা.)-এর যুগে আরবে সেমাইয়ের প্রচলন ছিল না, তাই হাদিসে সরাসরি সেমাইয়ের নাম উল্লেখ থাকা সম্ভব নয়। তবে যেহেতু নবীজি (সা.) মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করতেন এবং ঈদের সকালে মিষ্টি খেয়ে বের হওয়ার সুন্নাত রয়েছে, তাই সেই সুন্নাত পালনের উদ্দেশ্যে যদি কেউ সেমাই খায়, তবে সে সওয়াব পাবে। অর্থাৎ, সেমাই খাওয়া সরাসরি সুন্নাত না হলেও মিষ্টিমুখ করার যে সুন্নাতটি রয়েছে, তা সেমাইয়ের মাধ্যমেও আদায় করা সম্ভব।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা উৎসবের দিনে উত্তম ও পবিত্র খাবার গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন। সূরা আল-আরাফ-এর ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন,
বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে শোভা ও পবিত্র রিযিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে? আমাদের এই উপমহাদেশে সেমাই একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি খাবার, যা দীর্ঘকাল ধরে আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ঈদের আনন্দে হালাল ও পবিত্র খাবার হিসেবে সেমাই খাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েজ এবং নিয়তভেদে বরকতময়।
সহজ কথায়, ঈদের নামাজের আগে খেজুর বা অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া সুন্নাত। আমাদের দেশে সেমাইকে এই সুন্নাত পালনের সহজ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, সেমাইকে ধর্মের অপরিহার্য অংশ বা ইবাদত মনে করা যাবে না। বরং এটি একটি রুচিসম্মত সামাজিক খাবার যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মিষ্টিমুখ করার সুন্নাতটি পালনে সহায়তা করে। সুতরাং কেউ যদি সেমাই না খেয়ে অন্য কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে নামাজে যান, তাতেও তার সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে।
]]>
৩ সপ্তাহ আগে
৮








Bengali (BD) ·
English (US) ·