ঈদযাত্রার প্রস্তুতি: রেলের বগি মেরামতে কর্মব্যস্ততা পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে

২ দিন আগে
ঈদ যাত্রার জন্য প্রতিবার ঈদে ৮০ থেকে ৯০টি ট্রেনের বগি মেরামত করে রেলওয়ের বহরে যুক্ত করলেও এবার লক্ষ্য নেয়া হয়েছে জরাজীর্ণ ১২২টি বগি মেরামতের। বাড়তি চাহিদার কারণে শ্রমিক ও বাজেট সংকটের পরও মাত্র দুই মাসেই বগিগুলো বহরে যুক্ত করতে হবে। আর এতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে চলছে কর্মব্যস্ততা।

আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত করতে হবে ঈদযাত্রার জন্য চলাচল উপযোগী ১২২টি বগি। আর তাই কর্মব্যস্ত রেলওয়ের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপ। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের কর্ম পরিকল্পনায় প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১০৫টি বগি। পরবর্তীতে আরও ১৭টি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২২টি। অবশ্য এরই মধ্যে ৯২টি বগি মেরামত শেষে বহরে যুক্ত করতে ওয়ার্কশপ থেকে শেডে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফা জাকির হাসান বলেন, প্রতি বছরে আমাদের ৯০টি বগি মেরামতের লক্ষ্য থাকে। এবার সর্বাধিক ১২২টি বগি আমরা আউট দিচ্ছি। বগির কাজ শেষ হলে বডি, এরপর ভেতরের ইন্টেরিয়র-ফ্যান, লাইট, এসি সব ঠিক করা হয়। পেইন্টিং করে একদম নতুনের মতো করা হয়। যাত্রীরা এখানে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন।

 

প্রয়োজনীয় বগি সংকটের কারণে ঈদ যাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রী চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শেডে পড়ে থাকা নষ্ট, জরাজীর্ণ এবং ব্যবহার অনুপযোগী বগিগুলোই হয়ে উঠে ভরসাস্থল। আর তাই মেরামতের জন্য এগুলোর স্থান হয় পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে।

 

আরও পড়ুন: ট্রেনে ঈদযাত্রা: আজ মিলছে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট

 

শ্রমিকরা বলেন, ফল্ট চিহ্নিত করে সমাধান, টার্নিং, বোরিং ও গ্রিজিং-ফিনিশিং করা হয়। তারপর গাড়িতে বা বগিতে বসানো হয়। বগিগুলো যখন আসে তখন চলার উপযোগী থাকে না। আমরা এগুলো মেরামত করে রেলপথে চলার উপযোগী করি। পুরাতন জরাজীর্ণ বগি এখন নতুন চকচকা হয়েছে। যাত্রীরা যাতে সুন্দরভাবে চলাচল করতে পারে, সেজন্য আমরা কাজ করছি।

 

নিয়মিত চলাচলরত যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোতে যেমন ঈদের আগে অতিরিক্ত হিসেবে এসব বগি যুক্ত হবে, তেমনি ঈদের বিশেষ ট্রেনও প্রস্তুত হবে মেরামত করা বগি দিয়েই। আর তাই প্রতিটি বগির লিফট এনামেল, পিউরিডিক্যাল ওভার হোলিং ছাড়াও নতুন বসার আসন প্রস্তুত, ফিটিং করা হয়েছে লাইট-ফ্যান এবং শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র।

 

পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের ফিটার আলমগীর হোসেন বলেন, এখন টায়ার ফিটিং, ইঞ্জিনের ড্রাইভিং ফিটিং চলছে। মেশিনে টার্নিং হচ্ছে, পরে ক্লিনিং ও গ্রিজিং করা হবে। ঈদ উপলক্ষে স্পেশাল গাড়ি থাকায় বাড়তি চাপ থাকে, তাই আমাদেরও বাড়তি কাজ করতে হচ্ছে।

 

অবশ্য আরও অন্তত ২৪টি বগি পুরোপরি মেরামত শেষে বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ১৩ মার্চ থেকে শুরু হবে রেলওয়ের ঈদযাত্রা। আর এবার বিভিন্ন রুটে চলবে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন