কৌশলগত কারণে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এই অর্থ ছাড় করা হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথ চিরতরে বন্ধ করার একটি নীল নকশা। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কট্টরপন্থী দলগুলোকে দেয়া এই বিশাল উপহার এখন খোদ ইসরাইলের ভেতরেই তৈরি করেছে বিভাজন।
যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সম্প্রতি ২৭১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট পাস করেছে ইসরাইলি পার্লামেন্ট। বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার রাখা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন প্রকল্প।
কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই বাজেটের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দ পেয়েছেন, যা দিয়ে ফিলিস্তিনি জমিতে ইহুদিদের জন্য বসতি ও নতুন আউটপোস্ট তৈরি করা হবে। স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদন মতে, বাজেটের বিস্তারিত পর্যালোচনায় দেখা যায়, পশ্চিম তীরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের নতুন ছক আঁকা হয়েছে। অবৈধ বসতিগুলোর সুরক্ষায় ড্রোনের ব্যবহার ও সশস্ত্র বেসামরিক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬ মিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন: ইরানে চীনা ড্রোন ভূপাতিত, নেপথ্যে সৌদি আরব নাকি আমিরাত?
এছাড়া ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করতে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশেষ বাইপাস সড়ক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ বাজেট নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের কৃষি জমি থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে ইহুদি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার একটি পরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। গত কয়েক বছরে পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাওয়া এর ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এই বাজেট মূলত ক্ষমতায় টিকে থাকার একটি ‘বীমা পলিসি’। নিজের জোট সরকারের শরিক আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারাদি দলগুলোর সমর্থন ধরে রাখতে তিনি আইনগত বাধা উপেক্ষা করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২৫৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে।
এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে তিনি মূলত সেনাবাহিনীতে ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ সংক্রান্ত সংকট থেকে নিজের গদি রক্ষা করেছেন বলে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।
অন্যদিকে এই বাজেট পাসকে কেন্দ্র করে ইসরাইলি বিরোধী শিবিরের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্য ভুলবশত সরকারি সংশোধনীতে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ ইরানি গণমাধ্যমে
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এই ঘটনাকে সরকারের ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে উগ্রপন্থীরা এখন পশ্চিম তীরকে পুরোপুরি ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·