ইরান যুদ্ধ: ভয়াবহ হুমকির মুখে ভারতের কনডমশিল্প

১ সপ্তাহে আগে
ইরান যুদ্ধ এরইমধ্যে ভারতের এলপিজি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যার কারণে দেশটিতে সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশটির কনডম উৎপাদন শিল্প এবার ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে।

ভারতের শীর্ষস্থানীয় কনডম উৎপাদক প্রতিষ্ঠান—এইচএলএল লাইফকেয়ার, কিউপিড লিমিটেড ও ম্যানকাইন্ড ফার্মা জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কাঁচামাল সময়মতো পৌঁছাচ্ছে না।

 

প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, কনডম উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য পেট্রোকেমিক্যাল ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে এই খাতের উৎপাদন খরচ ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

 

বছরে ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদন হয় ভারতে। দেশটির প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮ হাজার কোটি রুপি) মূল্যের কনডমশিল্প রয়েছে, যেখানে কাঁচামালের সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শিল্পটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

আরও পড়ুন: মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে ‘তুচ্ছ’ বলছে ইরান, ‘বিধ্বংসী’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি

 

কনডম উৎপাদনের জন্য সিলিকন অয়েল এবং অ্যামোনিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের বর্তমানে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে; যা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

 

কনডম উৎপাদনের জন্য ল্যাটেক্সের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়ার প্রায় ৮৬ শতাংশই আসে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান থেকে। হরমুজ প্রণালির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই আমদানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ও পিভিসিসহ প্যাকেজিং উপকরণের দামও বেড়ে গেছে, ফলে উৎপাদন ধীর হয়ে পড়েছে। ভারতের একটি শীর্ষ কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিলিকন অয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’

 

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ, পারস্য উপসাগরে আটকা ২১৯০ জাহাজ

 

অ্যামোনিয়া ও সংশ্লিষ্ট পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ০.৪৮ ডলার (প্রায় ৪৫ টাকা) থেকে বেড়ে ০.৬৮ ডলার (প্রায় ৬৩.৪ টাকা) হয়েছে, যা কারণে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

 

ভারতীয় মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) সাবেক সভাপতি রাজীব জয়দেবন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের প্রভাব এখন গর্ভনিরোধক উৎপাদনেও পড়ছে, ফলে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট বাড়ছে।’

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর। সামান্য মূল্যবৃদ্ধিতেও তারা নিয়মিত কনডম ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে পারে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার বৃদ্ধি এবং যৌনবাহিত রোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন