শয়তান সর্বদা মানুষের পিছনে লেগে থাকে। প্রতিটি কাজে সে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করে। সে মানুষ গুনাহে লিপ্ত করার জন্য প্রলুব্ধ করতে থাকে। তাই দুনিয়ার সব কাজেই মানুষকে অবিরাম পরীক্ষা দিয়ে যেতে হয়। এ পরীক্ষায় কখনো মানুষের পদঙ্খলন হয়ে যায়। স্ত্রী-সন্তানাদির মায়া, তাদের সুখের চিন্তা, দারিদ্র্যতার ভয়, লোভ, মোহ, আকর্ষণ মানুষকে প্রতিনিয়ত গুনাহের দিকে টানতে চায়।
অথচ পবিত্র, পরিশুদ্ধ ও পরহেজগারীর জীবনই আল্লাহ তায়ালার পছন্দনীয়। কেবল পবিত্র আত্মার লোকেরাই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। কেবল আল্লাহর ধ্যান ও তাঁর চিন্তাই মানুষকে আল্লাহর নিকটে পৌঁছে দেয়। যে ব্যক্তি যতো বেশি পরিচ্ছন্ন ও গভীরভাবে আল্লাহকে উপলব্ধি করতে পারে, সে ততো বেশি আল্লাহর নৈকট্য লাভে সক্ষম হয়।
বস্তুত ইতিকাফ মানুষের জীবনে একটি সুযোগ এনে দেয়। সংসার ও সামাজিক যাবতীয় কাজকর্ম ও লেনদেন থেকে কিছু সময় কিছু দিনের জন্য মুক্ত হয়ে মানুষ একান্তভাবে আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকার সুযোগ পায় ইতিকাফের মাধ্যমে। এখানে স্ত্রীর চিন্তা নেই, স্বামীর চিন্তা নেই, সন্তানাদির চিন্তা নেই, সম্পদের চিন্তা নেই। মোটকথা, সকল চিন্তার ঊর্ধ্বে ওঠে মানুষ এখানে একমাত্র আল্লাহর চিন্তায় মশগুল হওয়ার সুযোগ পায়।
সে প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহকে স্মরণ করে, তাঁকে গভীরভাবে অনুভব করে। তাঁর আজাবের কথা মনে করে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাঁর পুরস্কারের কথা স্মরণ করে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। তাঁরই পথে চলার জন্য তাঁরই উদ্দেশ্যে নিজেকে কোরবানি করার জন্য সে মানসিকভাবে সুদৃঢ় সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ইতিকাফ মানুষের উপর এমন নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রভাব সৃষ্টি করে, যা তাকে দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে তথা পরহেযগারীর পথে পরিচালিত করে। তাই ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ অনেক পুণ্য ও নেকী অর্জন করে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। ইতিকাফ মুমিন জীবনের পাথেয়। অতএব সুন্দরভাবে ইতিকাফ করার স্বার্থে যে সমস্ত কাজ বেশি বেশি করা দরকার তা জেনে নেয়া চাই
ইতিকাফে যেসব কাজ বেশি বেশি করবে:
১. বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত করবে। ২. তাসবিহ-তাহলিল জিকির-আজকার করবে। ৩. বেশি করে দরুদ শরীফ ও সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন দুআগুলো পড়বে ৪. জীবনের সব গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং নিজের যাবতীয় নেক উদ্দেশ্যসমূহ পূরণের, উম্মতের হেদায়েতের এবং সব ধরনের ফেতনা থেকে হেফাজতের দোয়া করবে।
৫. কুরআনের তাফসির অধ্যয়ন ও হাদিসের জ্ঞানচর্চা করবে।
৬. বেশি করে নফল নামাজ পড়বে বিশেষ করে তাহিয়্যাতুল ওজু, তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন, সলাতুল হাজত ও সালাতুল তাসবিহ প্রভৃতি নিয়মিত আদায় করবে। ৭. দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে ও মানুষকে শিখাবে। ৮. লাইলাতুল কদরের ফজিলত লাভের নিমিত্তে বেজোড় রাতসমূহে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের নফল আমল করার চেষ্টা করবে।
৯. কাজে-কর্মে, কথা-বার্তায়, উঠা-বসায় অন্যের কষ্টের কারণ হতে পারবে না। ১০. মসজিদ পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সুন্দরভাবে ইতিকাফের হুকুম আহকাম পালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক: ধর্মীয় শিক্ষক, আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড কলেজ

৩ সপ্তাহ আগে
৬








Bengali (BD) ·
English (US) ·