মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) অনুষ্ঠিত তার এমফিল থিসিস ডিসকাশন সেমিনারে তিনি সর্বোচ্চ ফলাফল ‘মুমতাজ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হন। তার এ অর্জন আল-আজহারের একাডেমিক অঙ্গনে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তার গবেষণার শিরোনাম ছিল, الروايات المرسلة التي استدل بها الإمام أبو حنيفة وأصحابه في المسائل الفقهية – جمعًا ودراسة। এতে তিনি আবু হানিফা (রহ.) ও তার ছাত্রদের ব্যবহৃত মুরসাল রিওয়ায়াতসমূহ সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণাটি গভীরতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং উপস্থাপনার মানে পর্যালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।
সেমিনারে প্রধান পর্যালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-আযহারের উলুমুল হাদিস বিভাগের অধ্যাপক ড. খালেদ শাকের আতিয়াহ এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ হাফিজ। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. সুবহি আব্দুল ফাত্তাহ রাবি। পর্যালোচকগণ গবেষণাটিকে অত্যন্ত উচ্চমানসম্পন্ন ও মূল্যবান আখ্যায়িত করেন। বিশেষ করে ড. খালেদ শাকের আতিয়াহ মন্তব্য করেন, গবেষণাটির বিভিন্ন খণ্ড পৃথকভাবে একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রির মান পূরণ করে।
গবেষণাপত্রে হাদিসের তাখরিজ, বিশ্লেষণ ও ফিকহি প্রয়োগের ক্ষেত্রে গবেষকের অসাধারণ পরিশ্রম ও দক্ষতা ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন অন্য পর্যালোচকগণ। সেমিনারে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি এটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসার ভর্তিযুদ্ধ শুরু: নতুনদের জন্য জরুরি দিকনির্দেশনা
মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ আযহারি একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি লেখক, সম্পাদক, নিরীক্ষক এবং ইসলামি তুরাস বিষয়ক পাণ্ডুলিপি গবেষক হিসেবে সুপরিচিত। কায়রোর বিভিন্ন খ্যাতনামা গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন মারকাজুল বাহসিল ইলমি ওয়া তাহকিকুত তুরাস এবং মাহাদুল মাখতুতাতিল আরাবিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত গবেষণাগ্রন্থসমূহ ইতোমধ্যে জ্ঞানী মহলে প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের যশোরে জন্ম নেওয়া এই মেধাবী গবেষক কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার শিক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে উচ্চশিক্ষার জন্য আল-আযহারে গমন করেন। তিনি পূর্বে আল-আযহার থেকে সাফল্যের সঙ্গে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং ‘উলুমুল মাখতুত ওয়া তাহকিকুত তুরাস’-এ মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সর্বশেষ এই এমফিল ডিগ্রির মাধ্যমে তিনি তাঁর শিক্ষাজীবনে আরেকটি গৌরবময় মাইলফলক স্থাপন করলেন।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের সুনাম উজ্জ্বল করা এই তরুণ গবেষকের এ সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছে আল আজহার ওয়েলফেয়ার সুসাইটি অব বাংলাদেশ সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত গৌরব নয়, বরং বাংলাদেশের সমগ্র শিক্ষাজগতের জন্য এক অনন্য প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·