মঙ্গলবার (৮ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘ইরানের নারী ফুটবল দল, চিন্তা করো না, দেশ তোমাদের জন্য খোলা বাহুতে অপেক্ষা করছে।’
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের জেনারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, দলের সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারগুলোর উদ্বেগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের দলটি অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপ থেকে বিদায়ের পরই দলের পাঁচ সদস্য আশ্রয় প্রার্থনা করেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, ওই পাঁচ খেলোয়াড়কে দেশটিতে থাকার জন্য মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেখানে নিরাপদে থাকতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আশ্রয় প্রার্থনা করা খেলোয়াড়রা হলেন দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি, মিডফিল্ডার ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি আলিশাহ, মোনা হামৌদি এবং ডিফেন্ডার আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।
বার্ক আরও বলেন, ‘আমরা তাদের জানিয়েছি যে তারা চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারেন, এখানে তারা নিরাপদ এবং নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করতে পারবেন।’ একই সঙ্গে দলের অন্য সদস্যদেরও অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সংগীত চলাকালে কয়েকজন খেলোয়াড় নীরব দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে পরবর্তী দুই ম্যাচে তারা সংগীত গেয়েছেন ও সালাম জানিয়েছেন। প্রথম ম্যাচের সেই নীরবতা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির এক ভাষ্যকার ‘চরম অসম্মান’ বলে মন্তব্য করেন। এতে করে দেশে ফিরে খেলোয়াড়রা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের প্লে-অফ স্থগিত করার অনুরোধ ইরাকের
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকার পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়ার পর তাদের অজ্ঞাত স্থানে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এদিকে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের নারী বিষয়ক সহ-সভাপতি ফরিদেহ শোজায়ি বলেন, পুলিশ পাহারায় দলটি হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দূতাবাস, ফুটবল ফেডারেশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সব জায়গায় যোগাযোগ করছি। এই পাঁচ খেলোয়াড়ের পরিবারগুলোর সঙ্গেও কথা বলেছি।’
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট শহরে দলের কিছু সদস্য বাসে করে হোটেল ছাড়েন। বাসটির চারপাশে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভরত প্রবাসী ইরানিরা জড়ো হন। পরে খেলোয়াড়দের সিডনি বিমানবন্দরে নেয়া হয়। তবে কতজন খেলোয়াড় সেখানে পৌঁছেছেন বা তারা কোথায় যাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, খেলোয়াড়দের ইরানে ফেরত পাঠানো হলে তারা ‘সম্ভবত নিহত হবেন’ এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দেবে। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইরানি ক্রীড়াবিদদের ‘রক্ষা’ করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ভণ্ডামি।
আরও পড়ুন: ব্রাজিলে ফাইনালে ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখালেন রেফারি
এই ঘটনার পেছনে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাও বড় প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় গত ১১ দিনে ইরানে অন্তত ১,২৫৫ জন নিহত ও ১,২০০ জন আহত হয়েছেন বলে তেহরান জানিয়েছে। জবাবে ইরানও ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ অবস্থায় নারী ফুটবল দলের এই আশ্রয় প্রার্থনার ঘটনা শুধু ক্রীড়া নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার আলোচনার কেন্দ্রেও উঠে এসেছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৩





Bengali (BD) ·
English (US) ·