নদীভাঙনের তাণ্ডব ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেললেও তাতে কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন সড়কের পাশে।
পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙনের ভয়াবহতা
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়ি, হাজারী, মাগুরিহাট, খানপাড়া ও মাঝিপাড়া এলাকায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। গত এক মাসে খোলাবাড়ি থেকে চর ডাকাতিয়া হয়ে বড়খাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে এই নদীভাঙন।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের কারণে শুধু ঘরবাড়ি নয়, তাদের শেষ আশ্রয়স্থল মসজিদ, স্কুল এমনকি একটি ব্রিজও এখন হুমকির মুখে। ব্রিজটি ভেঙে গেলে অন্তত পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
১১ বার বাড়ি বদলে বেঁচে থাকা
চর ডাকাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা হামিদ বলেন, ‘গত এক সপ্তাহেই অনেক বাড়ি নদীগর্ভে গেছে। কেউ কেউ ১০/১১ বার বাড়ি পরিবর্তন করেছে। এবারের ভাঙনে হয়তো পুরো গ্রামই শেষ হয়ে যাবে।’
৭০ বছরের বৃদ্ধ সাত্তার মিয়া নদীপাড়ে বসে দেখছিলেন ভাঙনের দৃশ্য। চোখে জল নিয়ে বলেন, ‘নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। বসতভিটা, ফসলি জমি, কিছুই রাখেনি। এখন ১১ বার বাড়ি বদলে অন্যের জমিতে আছি, সেটাও চলে গেলে কোথায় যাব?’
আরও পড়ুন: ৫ কোটি টাকার তিন প্রকল্প: জামালপুর এলজিইডি কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশ্বাস
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘দেওয়ানগঞ্জে তীব্র ভাঙনের মুখে আমরা দুটি প্যাকেজে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছি। কিন্তু এটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে।’
তিনি জানান, গত দুই বছরে দেওয়ানগঞ্জের অন্তত ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যার মধ্যে গুচ্ছগ্রামও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত স্থায়ী বাঁধ দিন
নদীপাড়ের মানুষ বলছেন, যে গতিতে নদীভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত স্থায়ী বেরিবাঁধ নির্মাণ না করা হলে আরও বহু ঘরবাড়ি ও জনবসতি বিলীন হয়ে যাবে এবারের বর্ষায়।
]]>