বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম ’৭১ ও ’২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটি বিভাজনের রাজনীতি উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ ধরনের অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, '৭১ ও '২৪ কখনোই পরস্পরবিরোধী নয় বরং '৪৭-এ আমরা নিজের ভূখণ্ড লাভ করেছি, ‘একাত্তরের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে এবং '২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি লাভ করেছে। মুজিববাদী সংবিধানের ফলে সৃষ্টি ফ্যাসিবাদের কবর রচিত হয়েছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ’৪৭, ’৭১ ও ’২৪ এই ভূখণ্ডের মুক্তিসংগ্রামের এক-একটি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে রিফাত রশিদ বলেন, ‘যার সবই আমাদের গৌরবের অংশ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এসব সংগ্রামকে স্বীকার করে, সমভাবে সম্মান করে এবং একই সঙ্গে এ সকল সংগ্রামের প্রত্যেক সহযোগীকে আত্মিকভাবে ধারণ করে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ’২৪ ও ’৭১-কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপরাজনীতির স্পষ্ট বিরোধিতা করছে এবং এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।’
আরও পড়ুন: রাজপথেই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন করলো ছাত্র-জনতা
তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এই ধরনের অপরাজনীতি আসলে শাপলা ও শাহবাগের বাইনারি ফিরিয়ে এনে আবারও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। অথচ চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভুত্থ্যানের মধ্য দিয়ে মুজিবাদী ব্যবস্থা ও বাহাত্তরের ত্রুটিপূর্ণ সংবিধানের ফলে সৃষ্ট দুর্বল রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট গণবিক্ষোভ। এ ধরনের অপরাজনীতি ছাত্র-জনতা কখনোই মেনে নিবে না। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ ধরনের অপরাজনীতি বন্ধ করে এই ভূখণ্ডের জাতীয় স্বার্থ ও জনকল্যাণের পক্ষে রাজনীতি করার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, যদি কেউ এ ধরনের অপরাজনীতিতে লিপ্ত হয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক করার পাঁয়তারা করে, তাহলে ছাত্রজনতাকে সঙ্গে নিয়ে অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গড়ে তোলা আন্দোলন সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দেয়া হবে।’
]]>