১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে জন্ম হওয়া পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ঘরে ফিরল দম্পতি

১ দিন আগে
দীর্ঘ দশ বছর ধরে নিঃসন্তান থাকার যন্ত্রণা বয়ে বেড়িয়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার এনি আক্তার ও তার স্বামী। অসংখ্য চিকিৎসক দেখানো, বারবার পরীক্ষা— কিছুতেই সন্তানের মুখ দেখা হচ্ছিল না। সংসার পর্যন্ত ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবু আশা ছাড়েননি। অবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে বেছে নেন ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতি। কে জানত, সেই সিদ্ধান্তই তাদের জীবনে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ হয়ে আসবে।

এক ৩৭ দিন একসঙ্গে তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে জন্ম দেন এনি আক্তার। জন্মের পরপরই পাঁচ নবজাতককে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালের এনআইসিআউতে। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম যেমন ব্যতিক্রম, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। নবজাতকদের বাঁচিয়ে রাখা ছিল চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক, নার্সসহ সবাই।


পার্কভিউ হাসপাতালের কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিশিয়ান ডা. আবদুর রাজ্জাক শিকদার বলেন, এমন ঘটনা সত্যিই বিরল। এর আগে তিনি একসঙ্গে চার শিশুর জন্ম দেখেছেন কিন্তু পাঁচ নবজাতককে সুস্থ অবস্থায় পিতামাতার হাতে তুলে দিতে পারা, তার ভাষায় ‘মিরাকেল’। হাসপাতালে থেকে ৩৭ দিন নিবিড় পরিচর্যার পর অবশেষে পাঁচ নবজাতকই চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল হন।


সুস্থ সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরে মা এনি আক্তারের চোখে আনন্দের জল। বলেন, “আমি খুব খুশি। সবাই আমার পাঁচ সন্তানের জন্য দোয়া করবেন।”

 

আরও পড়ুন: যমজ সন্তানের মৃত্যুর পর এবার একসঙ্গে ৩ নবজাতকের জন্ম


এই পাঁচ সন্তানের জন্মের সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ও ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি। তিনি বলেন, বহু বছর নিঃসন্তান থাকার কষ্টে ছিলেন এনি আক্তার। আর্থিক কষ্ট সত্ত্বেও তারা চিকিৎসার খরচ বহন করে গেছেন। তাদের ক্ষেত্রে আইইউআই পদ্ধতি সফল হয়েছে। ফলে একসঙ্গে পাঁচ সন্তান গর্ভে এসেছিল। পাঁচজনই এখন সুস্থ।


সন্তানদের বাবা জানান, তাদের দুই পুত্রের নাম রাখা হয়েছে ওসমান হাদী ও আবরার ফাহাদের নামে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এবং ন্যায়বিচারের আন্দোলনে আলোচিত দুই তরুণের প্রতি সম্মান জানাতে তারা ছেলেদের এই নাম রেখেছেন।


৮ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রামের পিপলস হাসপাতালে জন্ম হয় এই পাঁচ নবজাতকের। এরপর ৩৭ দিনের লড়াই শেষে বুধবার সুস্থ অবস্থায় পাঁচ শিশুকে পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন