হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

৩ সপ্তাহ আগে
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ব্যর্থতা বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী ও গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার বিচারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে।


এ স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে  নিবেদন এই যে, শহীদ ওসমান বিন হাদি একজন আপসহীন তরুণ নেতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক সংগ্রামের অগ্রপথিক। তিনি ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পূর্বপ্রস্তুতি ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব, যোগ্যতার ঘাটতি, আন্তরিকতার অভাব এবং ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হত্যাকারী ও নেপথ্যের কুশীলবদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।


এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেয়া নয়; এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী কণ্ঠরোধের এক ভয়ংকর দৃষ্টান্ত, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-যুব ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।


আরও পড়ুন: শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যার দায় সরকারকে নিতে হবে: রুমিন ফারহানা


এ প্রেক্ষিতে আমরা নিম্নোক্ত দাবিসমূহ জোরালোভাবে উত্থাপন করছি—


১) শহীদ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হত্যাকারী, পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতাসহ সকলকে দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনতে হবে;

২) হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্র ও সংশ্লিষ্টদের  অবহেলা খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ  তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে;

৩) ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে;

৪) ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।


আমরা বিশ্বাস করি, আইনের শাসন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। উক্ত দাবিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শহীদ ওসমান বিন হাদির আত্মত্যাগের প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করা হবে এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন