হাজার বছরের এ মসজিদে সিন্নি খাওয়ালে জুড়ায় প্রাণ!

১ সপ্তাহে আগে
কুষ্টিয়া-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গার মধ্যে প্রথম মসজিদ বলে ধারণা করা হয় তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ঘোলদাড়ি শাহি মসজিদটিকে। স্থানীয়দের দাবি, মসজিদটি নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১০০৬ সালে। ১১শ’ বছরের পুরনো মসজিদটি এখনও টিকে রয়েছে, শুনিয়ে যাচ্ছে মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ঐতিহ্যের গল্প।

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা উপজেলার আঁইলহাস ইউনিয়ানের ঘোলদাড়ি গ্রামে ঘোলদাড়ি শাহি মসজিদটির অবস্থান।

 

স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, নদীপথে আলমডাঙ্গার ঘোলদাড়ি গ্রামে এসে আস্তানা গড়েন হজরত খাইরুল বাসার ওমজ (রহ.)। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে জন্য এ এলাকায় আসেন। ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজও শুরু করেছিলেন। ইসলাম ধর্ম প্রচারের এক পর্যায়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন আনুমানিক ১০০৬ সালের দিকে।

 

মসজিদটির নির্মাণশৈলীতে মুগ্ধ সবাই

 

মসজিদটিতে রয়েছে ৬টি কুঠুরি। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ। চার কোণে থামের ওপর রয়েছে ছোট ৪টি মিনার। দরজা ও জানালা রয়েছে।

 

মসজিদ নির্মাণের সময় পাতলা ইট ও টালি ব্যবহার করা হয়। গাঁথুনির জন্য চুন, সুড়কি ও মুসুর ডাল ব্যবহার করা হয়। ভেতরের প্রাচীরে ফুল আর লতাপাতার ছবি আঁকা রয়েছে। দুই পাশে দুটি দরজা ও দক্ষিণ দিকে ছোট একটি জানালা রয়েছে। মসজিদটি ছোট হওয়ায় ভেতরে দুই কাতারে নামাজ আদায় করা হয়। মসজিদটির নির্মাণশৈলী দেখে সবাই মুগ্ধ হন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসাবে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে মসজিদটি।

 

আরও পড়ুন: মসজিদে নববীতে স্মার্ট এআই মেডিকেল ক্যাপসুল চালু

 

ঘোলদাড়ি শাহি মসজিদটি মুসল্লিদের নামাজ আদায় করার জন্য বর্ধিত ও সংস্কার করা হয়েছে। আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মকবুলার রহমান উদ্যোগ নিয়ে মৃত প্রায় মসজিদটি পরিষ্কার ও সংস্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী করেন। তারপর থেকে আবারও প্রাণ ফিরে পায় মসজিদটি।

 

বেদখল হয়েছে মসজিদের জমি

 

স্থানীয়রা জানান, ঘোলদাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল কাদারের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী মসজিদের নামে ৮৮ শতক জমি ওয়াক্‌ফ করে দেন। পাইকপাড়া গ্রামের সবুর উদ্দিন, গাজির উদ্দিন, নিয়ামত আলিসহ অনেকে জানান, মসজিদটির জমির পরিমাণ ১৪১ বিঘা। অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে বর্তমানে।

 

হজরত খাইরুল বাসার ওমজ (রহ.) মারা যাওয়ার পর তাকে মসজিদ প্রাঙ্গণেই দাফন করা হয়। সংরক্ষণের অভাবে তার কবরটিও ধ্বংস প্রায়।

 

ছোট্ট মসজিদে প্রাণ জুড়ায় মুসল্লিদের

 

মসজিদটির চার পাশ গাছ গাছালিতে ঘেরা। মসজিদের পেছন দিকে রয়েছে একটি পুকুর। মানুষ তাদের মনের বাসনা পূরণের জন্য এখানে মানত করেন। আল্লাহর রহমতে ইচ্ছা পূরণ হলে মুসল্লিরা জুমার দিনে মসজিদটিতে সিন্নির আয়োজন করেন।

 

সংস্কারের পর মসজিদটির সামনের অংশ বাড়ানো হয়। ছবি সময় সংবাদ

 

ঝিনাইদহ থেকে আসা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে এসেছি। আমি জুমার নামাজ আদায় করেছি। মানত আছে তা শোধ করলাম। নিয়ত করে আল্লাহর কাছে চাইলে পূরণ হয়। এটি অনেক পুরনো একটি মসজিদ। এখানে আসার পর থেকে মন ভালো হয়ে যায়। সুযোগ পেলে আবারও আসবো মসজিদে।’ 

 

আরও পড়ুন: দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র কাঠের মুসলিম স্থাপত্য মমিন মসজিদ

 

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, এখানে মানুষের বসবাস তেমন একটা ছিল না। জঙ্গলে ঘেরা ছিল। বিভিন্ন প্রাণীর দেখা মিলত। কিন্তু মসজিদ নির্মাণের পর মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়তে আসতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী-পুরুষসহ সব বয়সের মানুষ ছুটে আসেন নামাজ পড়তে ও মানত শোধ করতে।

 

সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয়ার দাবি স্থানীয়দের

 

ঘলদাড়ি শাহি মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, গ্রামের সবাই মিলে আমরা ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি বাঁচিয়ে রাখতে কাজ করছি। মসজিদটির কারণে দেশ বিদেশের মানুষের কাছে আমাদের এলাকা পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 

দ্রুত সময়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিলে মসজিদটি শতশত বছর টিকে থাকবে বলে মনে করেন আব্দুল মান্নান।

 

আরও পড়ুন: জঙ্গল পরিষ্কার করে পাওয়া মসজিদটির রহস্যময় ইতিহাস

 

ঘোলদাড়ি শাহি মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, পুরনো মসজিদের দায়িত্ব পেয়ে আমি খুশি। আল্লাহর রহমত থাকায় ইমামতি করার সুযোগ পেয়েছি। আমিও ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এখানে আসেন। সবার জন্যই মসজিদটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।

 

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, জেলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির পরিবেশ অনেক ভালো। অনেক পুরনো এ মসজিদে শুক্রবার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদটির সংস্কার ও সংরক্ষণে সব ধরনের খোঁজ রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন