হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা

১ সপ্তাহে আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া একটি নতুন পোস্টে বলেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন’ এবং এ কারণে চীন ‘খুবই খুশি’।

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর কখনো অবরুদ্ধ হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা।

 

 

ট্রাম্প লিখেছেন, 

চীন খুবই খুশি যে আমি হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছি। আমি এটা তাদের জন্যও করছি এবং বিশ্বের জন্যও। এই পরিস্থিতি আর কখনো ঘটবে না। তারা (চীন) ইরানে অস্ত্র পাঠাবে না বলে সম্মত হয়েছে। 

 

তবে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে তার এই দাবি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বেইজিং তেহরানকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান শনাক্ত ও সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চীনা গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আসছে ইরান। 

 

আরও পড়ুন: এবার লোহিতসহ ৩ সাগর অবরোধের হুঁশিয়ারি ইরানের

 

তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার অস্বীকার করেছে যে তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

 

এদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ (হরমুজ প্রণালীতে) অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।

 

তিনি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি তার অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ‘একটি ভূমিকা’ হিসেবে গণ্য হবে।” 

 

আরও পড়ুন: নতুন ২ শর্তে আলোচনায় ফিরতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান মানবে?

 

আলী আবদোল্লাহি আরও বলেন, 

ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের রফতানি বা আমদানি চলতে দেবে না।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বাহিনীর ‘আরও হাজারো’ সদস্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

 

ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে।

 

জানা গেছে, সেনা পাঠানোর বিষয়ে জানেন এমন মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এই খবর প্রকাশ করেছে। তবে খবরটি প্রকাশ করে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এখনো স্বাধীনভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

 

পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে। তার দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিরাই’ ডেকেছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।

 

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনের মধ্যে হাজারো সেনা পাঠাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রিপোর্ট

 

নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজ এবং ট্যাংকারগুলোকেও এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না।

 

ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় সরকারের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি থাকুক।

 

যুক্তরাষ্ট্রও বলছে, তারা আলোচনায় ফিরবে কেবল তখনই, যখন ইরানের প্রতিনিধিদল চুক্তি সম্পন্ন করার ‘পূর্ণ ক্ষমতা’ নিয়ে আসবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন