লাটভিয়া ও এস্তোনিয়া এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালী মাইনমুক্তকরণে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এবার এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানালো লিথুয়ানিয়া।
দেশটির জাতীয় উপদেষ্টা ডেভিডাস মাতুলিওনিস আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের সহায়তা বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না, তবে আমাদের সেনাবাহিনী এখন ভাবছে আমরা কী ধরনের সহায়তা দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা কোনো না কোনো ধরনের মিশনে অংশ নেব, যা মূলত লজিস্টিক সহায়তা ও মাইন অপসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে লিথুয়ানিয়ার কাছে সাহায্য চায়নি, তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
মাতুলিওনিস বলেন, লিথুয়ানিয়া কীভাবে এই মধ্যপ্রাচ্যের মিশনে অংশ নেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়—সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করবে, নাকি ইউরোপের যৌথ উদ্যোগের অংশ হবে।
আরও পড়ুন: হরমুজে জব্দ ইরানি জাহাজে চীন থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের রাসায়নিক ছিল, নিকি হ্যালির দাবি
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে দেশের রাষ্ট্র প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকারের নির্বাহী বিভাগ, যারা আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনে লিথুয়ানিয়ার অংশগ্রহণ অনুমোদন করে।
গত সপ্তাহে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠক করেন। এরপর ঘোষণা দেয়া হয় যে, তারা ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষামূলক মিশনের নেতৃত্ব দেবে। তবে এই অভিযানটি আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার পরই বাস্তবায়ন করা হবে।
লিথুয়ানিয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের এই উদ্যোগকে সমর্থন করে তার দেশ।
বুদ্রিসি বলেন, লিথুয়ানিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ইরান যেন পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: চুক্তি না হলে বোমা পড়বে—ট্রাম্প, ‘নতুন কার্ড’ নিয়ে আমরা প্রস্তুত—ইরান
আজ মঙ্গলবার লুক্সেমবার্গ সফরকালে তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগকে লিথুয়ানিয়া সমর্থন করে। এই প্রচেষ্টায় অবদান রাখা আমাদের দায়িত্ব এবং আমাদের এ বিষয়ে প্রস্তুত থাকা উচিত।’
বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে প্রণালীটি আবারও বন্ধ করে দেয় ইরান। এই পথ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ইরানের হাতে আলোচনায় দর–কষাকষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। শুধু বর্তমান আলোচনায় নয়, বরং তারা এটিকে দীর্ঘমেয়াদি চাপ প্রয়োগের উপায় হিসেবেও দেখছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·