নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।
কুমড়ি এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনায় তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথম বারের মতো জামায়াতকে এই আসনে আপনারা বসিয়েছেন। শুধু তা নয়, প্রথমবার এই আসনে বিরোধী কোনো দলের সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আপনারা যে ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সম্মানের চেয়ারে বসিয়েছেন, আমি আপনাদের সেবক হয়ে থাকবো ইনশাআল্লাহ।'
আতাউর রহমান আরও বলেন, তিনি গত দেড় বছর ধরে প্রতিটি মহল্লায় ঘুরে জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করেছেন। এলাকার গুরুত্ব অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি নিজেকে নড়াইল-২ আসনের জনগণের ‘ক্লিনার’ বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একটি উন্নত, আধুনিক ও স্মার্ট নড়াইল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী খরচ ও স্বচ্ছতা নিয়ে নবনির্বাচিত এমপি বলেন, 'এই নির্বাচনে আপনারা প্রমাণ করেছেন পেশিশক্তি ও কালো টাকার চেয়ে ভালোবাসার শক্তি অনেক বেশি। আমি আপনাদের একটি টাকাও দিতে পারিনি, কিন্তু আপনারা অগাধ ভালোবাসা দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি, সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি পয়সার হিসাব আপনাদের সামনে থাকবে।'
আরও পড়ুন: ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন, জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে মোট ১৪৮টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান (বাচ্চু)। তিনি মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক), যিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট। অন্যদিকে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। ফলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৩৯ হাজার ৬৮৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে মো. আতাউর রহমানের এই জয়কে জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
]]>

২ সপ্তাহ আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·