স্বল্প খরচে অধিক লাভ, সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা

১ সপ্তাহে আগে
ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদী অববাহিকার চরাঞ্চলে বেড়েছে সরিষার চাষ। স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় সরিষার আবাদে ঝুঁকছেন জেলার কৃষকরা। এদিকে তেল জাতীয় শস্যের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করাসহ সহযোগিতার কথা জানায় কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের গালিচা। হালকা বাতাসে দোল খাওয়া ফুলে মধুসংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছিরা। এ দৃশ্য শোভা পাচ্ছে জেলার চরাঞ্চলসহ পথের ধারে ধারে।


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার গোগাদহ ইউনিয়নের বটতলা ও ট্যাংগরমারীর মতো জেলার ৯ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় ছেয়ে আছে সরিষা ক্ষেত।


কৃষকরা জানায়, বন্যা পরবর্তী সময় বাড়তি আয়ের জন্য পতিত জমিতে সরিষা লাগিয়েছেন তারা। এই সরিষা বিক্রির টাকায় সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যে একই জমিতে বোরো আবাদও ঘরে তুলতে পারবেন তারা।


সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়নের বটতলা এলাকার কৃষক আবেদ আলী বলেন, বন্যার পর ধান লাগানোর সময় না থাকায় সরিষা লাগিয়েছি। এই সরিষা বিক্রির টাকায় পরিবারের খরচ চালানোসহ বোরো আবাদের খরচ চালানো সম্ভব হবে।


আরও পড়ুন: শীত-কুয়াশায় মধু চাষে বিপর্যয়, সরিষায়ও ব্যাপক ক্ষতি


সদরের পাঁচগাছী এলাকার কৃষক মিন্টু মিয়া বলেন, ‘সরিষা আবাদে খরচ কম কিন্তু প্রতিমণ বিক্রি হয় ২২০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। এরপর সরিষা চাষের জমিতে ধানের ফলনও ভালো হয়। এ জন্য প্রতি বছর সরিষা আবাদ করি।’


কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ দফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেল জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে প্রতি বছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতেও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।


কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ৯ উপজেলায় গত মৌসুমে ২৫ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ২৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন