স্ত্রীকে চুমু দিলে বা ঘনিষ্ঠ হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

২ সপ্তাহ আগে
রমজান ইবাদতের উর্বর সময়। এ সময় ইবাদতের রয়েছে অনন্য সওয়াব ও ফজিলত। রোজার রয়েছে নির্দিষ্ট নীতিমালা। এ নীতিমালার আলোকেই রোজা রাখতে হবে।

অনেকে জানতে চেয়েছেন, স্ত্রীকে চুমু দিলে বা ঘনিষ্ঠ হলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

 

এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম দেয়া বা আলিঙ্গন করা ইসলামে জায়েজ। এতে রোজার কোনো অসুবিধা হয় না। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করতেন, আলিঙ্গনও করতেন।

 

আরও পড়ুন: সেহরি না খেয়ে কি রোজা রাখা যাবে?

 

হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, 

 

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। কিন্তু আপন (জৈবিক) চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার অধিকারী (বুখারি, হাদিস: ১৮৪১)

 

তবে, গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে এমনটি করা মাকরুহ। বিশেষ করে যুবকদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, 

 

আমরা নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন এক যুবক এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল, আমি কি রোজা রেখে চুমু খেতে পারি? নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না। এরপর এক বৃদ্ধ এলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। আমরা তখন অবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি জানি, তোমরা কেন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছ। শোনো, বৃদ্ধ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। (মুসনাদে আহমদ: ২ / ১৮০ ও ২৫০)

 

তবে রোজা রেখে চুম্বন বা আলিঙ্গনের কারণে যদি বীর্যপাত হয়ে যায় তাহলে দিনের বাকি অংশ রোজা অবস্থায় থেকে পরে রোজার কাজা আদায় করতে হবে। কাফ্ফারা আদায় করতে হবে না। এটা অধিকাংশ আলেমদের মত। চুমু বা আলিঙ্গনের কারণে যদি মজি বের হয় তবে, এতে রোজার কোনো ক্ষতি করে না। এটা অধিকতর বিশুদ্ধ মত।

 

রোজাদারের জন্য সে যুবক হোক বা বৃদ্ধ, স্ত্রীকে চুমু দেয়া এবং আলিঙ্গন করা জায়েজ, যদি সহবাসে লিপ্ত বা বীর্যপাত হবে না বলে নিজের ওপর দৃঢ় অবস্থা থাকে। তাই তার রোজা নফল হোক বা ফরজ, রমজানে হোক বা অন্য কোনো মাসে। আলিঙ্গন দ্বারা উদ্দেশ্য গায়ে গা মিলানো। যেমন- স্পর্শ করা বা জড়িয়ে ধরা। আলিঙ্গন এখানে স্ত্রী সহবাসের উদ্দেশ্য নয়, কারণ স্ত্রী সহবাস করলে অবশ্যই রোজা ভেঙে যাবে।

 

আরও পড়ুন: তারাবির নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও দোয়া


রমজান মাসে রাত্রে সেহরি খাওয়ার আগে স্বামী ও স্ত্রী মিলন করা যাবে। রোজা অবস্থায় সহবাস করা যাবে না। কিন্তু রোজা অবস্থায় চুম্বন করা যাবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের জন্য ধর্মকে সহজ করতে চাই। তাই তোমরা রমজান মাসে রাত্রে স্ত্রী গমন করলে তোমাদের কোনো পাপ নেই।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন